রাজধানীর বনানীতে রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ ফিলিপাইনের নাগরিক কেইস্টিন ভার বুনাগ (৩২) মারা গেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার। তিনি জানান, গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফিলিপাইনের এই নারী নাগরিক মারা যান। তার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই বাসার ম্যানেজার মো. আল আমিন জানান, গত ২৮ অক্টোবর রাতে বাসায় রান্নার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডারের চুলায় আগুন জ্বালাতে গেলে হঠাৎ গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন ধরে যায়।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ অক্টোবর ট্যুরিস্ট ভিসায় কেইস্টিন ভার বাংলাদেশে আসেন। এরপর বনানীর ৭ নম্বর সড়কের ৬৬ নম্বর বাড়ির (ব্লক-বি/১) একটি ফ্ল্যাটে ওঠেন। এদিকে, আজিনা মটো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাপানি নাগরিক নাকাসিমা ফুমিয়াকি জানিয়েছেন, নিহত কেইস্টিন ভার তার বান্ধবী ছিলেন। তারা দুজন গত ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে ওই ঠিকানায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বনানীতে আগুনে দগ্ধ ফিলিপাইনের এক নারী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।






















