পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অতিরিক্ত ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সরকারের ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রেজিস্ট্রার পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বাইরে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়েছেন।
এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৯টি পদে ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সংখ্যার বাইরে আরও ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে সেকশন অফিসার পদে অতিরিক্ত তিনজন নিয়োগ পান। এদের একজন সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন সামন্ত তনু।
এ ছাড়া অফিস সহায়ক পদে অতিরিক্ত পাঁচজন, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে তিনজন এবং বুক বাইন্ডার, কিচেন হেলপার, অ্যাটেনডেন্ট, হেলপার ও মালী পদে একজন করে অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ফলে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর কৃষিতত্ত্ব বিভাগে একটি প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
একই বছরের ২৬ মে পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগেও একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত দুই শিক্ষক নিয়োগের ফলে সরকারের আরও ২৮ লাখ ৭ হাজার ৬৯৩ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮ জন অতিরিক্ত জনবল নিয়োগে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডগুলোর সভাপতি ছিলেন তৎকালীন উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত এবং সদস্যসচিব ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের প্রভাবিত করে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের সুপারিশ করেন। পরে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত তৈরি ও অনুমোদনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ সম্পন্ন করেন।
এ প্রক্রিয়ায় সাবেক উপাচার্য নিজের ছেলেসহ অন্যদের নিয়োগে প্রভাব খাটিয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠে এসেছে। বর্তমানে স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের এবং সন্তোষ কুমার বসু উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।





















