শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে পঞ্চমী থেকেই ঝলমলে আলো, লাল-সাদা আলপনা আর নান্দনিক মণ্ডপসজ্জায় সেজেছে তিলোত্তমা কলকাতা। টালিউডের অন্যতম দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী রাইমা সেনের কাছে এবারের পূজাটা একটু বেশিই বিশেষ।
কারণ, উৎসবের আমেজের মাঝেই বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘দ্য একেন : কেরালা ই কুরুক্ষেত্র’। শহরের বিভিন্ন পূজাম-প উদ্বোধন ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। উৎসবের দিনগুলোয় তার ফ্যাশন ভাবনা, ছোটবেলার পূজার মিষ্টি স্মৃতিÑ সবকিছু নিয়ে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলার রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন রাইমা।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুহুল আমিন ভূঁইয়া এবারের পূজা কেমন কাটছে? দারুণ কাটছে। কারণ, বহু বছর পর পূজায় আমার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সর্বশেষ ‘বাইশে শ্রাবণ’ মুক্তি পেয়েছিল। পূজা আমার জন্য লাকি। অনেক বছর পর অনেক কিছু ঘটছে। যেমন এসভিএফের সঙ্গে অনেক বছর পর কাজ করলাম এই সিনেমায়। জয়দীপদার সঙ্গে প্রথমবার করলাম। ঋত্বিক, অম্বরীশ, কমলেশ্বরদা সবার সঙ্গেই অনেক দিন পর কাজ করলাম।
একদম রিইউনিয়নের মতো। অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করলাম। আগে ‘চালচিত্র’ করলেও সেভাবে একসঙ্গে ছিল না আমাদের। কেরালায় আমি আগে মালয়ালম ফিল্মের জন্য গিয়েছি; তবে বাংলা সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এই প্রথম। মুন্নার বা কোচিতে আমি প্রথম গেলাম এই শুটিংয়ের জন্য। মুক্তির পর সিনেমাটি থেকে বেশ সাড়াও পাচ্ছি। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ সময় পার করছি।
আপনার কাছে কলকাতার পূজার সেরা স্মৃতি কোনটি? দুর্গাপূজা ঘিরে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর কিছু হলো ছোটবেলার, যখন আমি আমার ঠাকুমার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতাম। তিনি প্রতিটি উৎসব অত্যন্ত ভালোবাসা ও উৎসাহের সঙ্গে পালন করতেন। আমার এখনো মনে পড়ে, তিনি নিজে মেঝেতে বসে আলপনা আঁকতেন আর আমরা কলাপাতায় খাবার খেতাম। সেই ছোট ছোট প্রথার মধ্যে এক অনন্য সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব ছিল।
ছোটবেলার পূজা আর বর্তমানের পূজার মধ্যে আপনার চোখে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী মনে হয়? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে গেছে। আগে যেভাবে অবাধে বিভিন্ন ম-পে ঘুরে বেড়াতাম, এখন আর তেমন সুযোগ হয়ে ওঠে না। তবে আমি ভাগ্যবান যে বিভিন্ন ম-প উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ পাই; আর এভাবেই উৎসবের আমেজ উপভোগ করা এবং অনেক সুন্দর সুন্দর ম-প দেখার সুযোগ হয়।
বিষয়টি দারুণ, কিন্তু মাঝে মাঝে শৈশবের সেই নিশ্চিন্ত দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়েÑ যখন পূজার মানেই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা, হাসাহাসি করা আর আনন্দ করা। আমার মনে হয়, সেই স্মৃতিগুলো আমার কাছে সব সময়ই খুব বিশেষ হয়ে থাকবে। আপনার চোখে এখনকার পূজা কেমন হচ্ছে? আমার মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পূজা অনেক বড় এবং আরও জমকালো হয়ে উঠেছে।
এখন অনেক কিছুরই আয়োজন থাকেÑ বিশাল সব ম-প থেকে শুরু করে ফ্যাশন আর সোশ্যাল মিডিয়াÑ সব মিলিয়েই যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে এর মূল আবেগটা কিন্তু একই রয়ে গেছে। সেই উত্তেজনা, নানা ধরনের খাবার, সুন্দর পোশাক আর সবার একসঙ্গে থাকার অনুভূতিÑ এসবই পূজাকে সত্যিই বিশেষ করে তোলে। শৈশবের পূজা মিস করেন? ছোটবেলায় পূজার সময় মানেই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে পড়া, এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো, হইহুল্লোড় করা আর কোনো রকম চিন্তা না করে মনের আনন্দে রাস্তার নানা খাবার ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া!
সেই দিনগুলোর উত্তেজনা ছিল একেবারেই অন্য রকম। সেই দিনগুলো খুব মিস করি। তবে এখনকার পূজাও বেশ উপভোগ করি। পূজায় আপনার ফ্যাশন পরিকল্পনা কী থাকে? পূজার সময় সাজগোজ করতে আমার খুব ভালো লাগে! মার্জিত ও আরামদায়ক ভাব বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের সাজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আমি উপভোগ করি; বিশেষ করে অষ্টমীর দিন বা দশমীর সকালে শাড়ি পরাটা সব সময়ই দারুণ একটি পছন্দ।
আমি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজ খুব ভালোবাসিÑ সুন্দর গয়না আর তার সঙ্গে লাল রঙের ছোঁয়া। আমার মতে, পূজার সেরা সাজ সেটাই, যাতে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয় এবং নিজের ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি ফুটে ওঠে। পূজার দিনগুলোয় কি ডায়েট পুরোপুরি বাদ? সত্যি বলতে, আমি কখনোই সেভাবে ডায়েট করি না! তবে পূজার সময় আমি বেশ তৃপ্তি করে মিষ্টি খাইÑ অথচ বছরের বাকি সময়ে সাধারণত খুব একটা মিষ্টি খাওয়া হয় না।
পূজার সময়টা হলো একটু নিয়ম ভাঙার আর উৎসবের সব সুস্বাদু খাবার উপভোগ করার উপযুক্ত অজুহাত। আমার মনে হয়, আমাদের উদযাপনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খাবার; আর আমি নিশ্চয়ই সেই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাই না! দেশ-বিদেশের ভক্তদের উদ্দেশে কী বার্তা থাকবে? আমি আমার ভক্তদের শুধু এটুকুই বলতে চাই যে আপনারা আমার সিনেমাগুলো দেখা চালিয়ে যান এবং সব সময় যেভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়ে এসেছেন, তা অব্যাহত রাখুন।
এটি আমার কাছে অনেক বড় একটি বিষয়! আপনাদের দুর্গাপূজা খুব চমৎকার কাটুক। প্রচুর কেনাকাটা করুন, পেট ভরে খান, বাইরে ঘুরতে যান, আনন্দ করুন, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটান এবং এই সুন্দর দিনগুলো পুরোপুরি উপভোগ করুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিরাপদে থাকুন এবং নিজেদের খেয়াল রাখুন। সবাইকে পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
শুভ শারদীয়া!





















