তীব্র গরম ও খরাতাপ পেরিয়ে হালকা ঠান্ডা শীত অনুভূত হতেই চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে মাঠে গাছিরা খেজুর গাছ কাটা শুরু করেছেন। ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাঠের প্রতিটি খেজুর গাছে দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য।
এখন খেজুর গাছ কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে এ জেলার সব গাছিরা। আর কয়েক সপ্তাহে পর খেজুর গাছে রস সংগ্রহ করতে শুরু করবে এ জেলার গাছিরা। তারপর হবে উন্নত মানের গুড়, পাটালি উৎপাদন। যা এ জেলার গুড় ভেজাল মুক্ত সু-স্বাদু মানের গুড় তৈরি করে এ জেলার কৃষকরা। এবার এ মৌসুমে গাছিরা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটছে। যা পারিশ্রমিক আয় আসছে প্রতিদিন ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা করে।
এতে খুশি গাছিরা। চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন গাছ কাটা নিয়ে চলছে গাছিদের মধ্যে এক রকম প্রতিযোগিতা। প্রতিবার গাছিরা শীত মৌসুম আসলে তারা গাছ কেটে যে আয় হয় এ থেকে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। নভেম্বর শুরু থেকে গাছে গাছে থাকবে মাটির হাড়ি। যাতে করে রস সংগ্রহ করা যায় এবং এ থেকে গুড় উৎপাদন করে। তা বিক্রি করা হবে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার এ জেলায় ২ লাখ ৭১ হাজার খেজুর গাছ আছে। এখন এসব গাছ কাটা প্রস্তুতি চলছে। তারপর রস সংগ্রহ করে গুড় উৎপাদন করা হবে। এবার এ জেলার আড়াই হাজার টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের গাছি আ. মজিদ বলেন,প্রতি বছরের মতো এ বছরেও আগেভাগে তিনি ১২০টি খেজুর গাছ তুলেছেন।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার গাছি রহম বারি বলেন, এ বছর তিনি আগাম খেজুর গাছ তুলছেন। আর কয়েকদিন পর গাছ তোলার জন্য লোক পাওয়া খুব কষ্ট হয়ে যাবে বলে এ জন্য তিনি অগ্রিম গাছ তুলছেন। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ তুলছেন তাতে একজন শ্রমিককে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা হাজিরা দিচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষনো রায় বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার উৎপাদিত গুড়ের মান ভালো।
যে কারণে চাহিদা খুব ভালো। আর এ চাহিদা মিটানোর জন্য এবার গাছিরা রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটার প্রস্ততি শুরু করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার উৎপাদিত গুড় এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে।






















