কুষ্টিয়ায় মহালয়ার দিনে পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল ও তিল অর্পণের মধ্যদিয়ে গঙ্গা স্নান ও তর্পণ অর্পণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে এ গঙ্গা স্নান ও তর্পণ অর্পণ করা হয়।
এ সময় শ্রী কৃষ্ণ সংঘের রাম কৃষ্ণ দেবরায় স্নান পরিচালনা করেন। এ ছাড়াও গোপীনাথ বাগচী, অমিত বাগচী, তরুণ বাগচী স্নান পরিচালনা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাগবত পাঠক শ্রীগুরুদেব দিবাকর গোস্বামীর অসংখ্য শিষ্য, ভক্ত ওশুভাকাঙ্ক্ষীরা গঙ্গা স্নান ও তর্পণ অর্পণে অংশ নেন। জানা গেছে, মহালয়ার দিনে গঙ্গা স্নান ও তর্পণ হলো পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল ও তিল অর্পণের একটি পবিত্র হিন্দু আচার।
পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে মৃত পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাদের তুষ্ট করলে আত্মা শান্তি পায়, আর সন্তুষ্ট হয়ে পরিবারকে আশীর্বাদ করেন সমৃদ্ধির জন্য। মন্ত্রোচ্চারণ করে কুশ, তিল মেশানো জল, চাল, দুধ, সাদা ফুল একত্রে নিবেদন করা হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে। সাধারণত গঙ্গায় স্নান করে তর্পণ করার চল রয়েছে।
তবে বাড়ির আশপাশে নদী না থাকলে, পুকুরেও তর্পণ করা যেতে পারে। এদিকে মহালয়া তিথিতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষের। আর সেই শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ-গণনা শুরু। তবে মহালয়া কেবল শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণ-গণনার সূচনা নয়, এটি পরলোকগত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোরও বিশেষ তিথি। পিতৃপক্ষের অবসানের পর দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে জলদান বা তর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণই মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যায় শারদীয় দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, এই তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে আগমনের সূচনা ঘটে। চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। পুরাণে দুর্গোৎসবের তিনটি পর্বের কথা বলা হয়েছে- মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা।
মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণমতে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী, কোনো মানুষ বা দেবতা মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। এই বর পেয়ে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তির সৃষ্টি করেন।
দেবতাদের দেওয়া ১০টি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা টানা নয় দিন যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন।






















