রংপুরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের সাহসী আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রংপুরসহ পুরো দেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ গেটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, নিজের জীবন উৎসর্গ করে শহীদ আবু সাঈদ রংপুরকে বিশ্বদরবারে অনন্য পরিচিতি দিয়েছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। রংপুর অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। রংপুরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের জন্য ৭ শতাংশ সুদে ব্যাংকঋণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম সুদে ঋণ দেওয়ার এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবৈষম্য কমানো এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ানো। অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বরাদ্দের অভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু নেতিবাচক সমালোচনা না করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষা, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী এবং সঞ্চালনা করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।






















