পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত দেশটির ফুটবল অঙ্গন। নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে রাখেন জেসুস। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পর্তুগালের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। এরপর অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
তবে বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন রোনালদোর মা দোলোরেস আভেইরো। এই ঘটনায় পর্তুগালের লোকজনকে তিনি ‘অকৃতজ্ঞ’ হিসেবে দাবি করেন। একই সঙ্গে এটাও জানান, পর্তুগিজরা রোনালদোকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি।
সম্প্রতি ‘টিভি ৭ দিয়াস’ সাময়িকীকে সাক্ষাৎকার দেন রোনালদোর মা। সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে জিই নেটওয়ার্ক। ওই সাক্ষাৎকারে দোলোরেস আভেইরো জানিয়েছেন, রোনালদোর ঘটনা তাঁকে কাঁদিয়েছে। তবে রোনালদোকে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শান্ত থাকতে বলেছিলেন তিনি।
দোলোরেস বলেন, ‘সে (রোনালদো) আমাকে বলেছিল, ‘মা, চিন্তা কোরো না। আমরা সবাই একসঙ্গে হলে আমি সত্যিটা বলব।’ তখন আমি ওকে বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে বাবা, সবকিছু ঠিক করে নিয়ো।’”
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে নিজের বিবেচনায় ওই (ক্যাম্প ছাড়ার) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেখা যাক, কী হয়। আমি তাকে সব ধরনের সমর্থন দিয়েছি, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।’
পর্তুগালের মানুষের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোনালদোর মা। তিনি ছেলেকে ‘পর্তুগালের নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে দোলোরেস বলেছেন, ‘তবে ঠিক আছে। সে পর্তুগালের জন্য অনেক কিছু করেছে। তাই সে সব সময়ই পর্তুগালের মানুষের মনে থাকবে। সে সব সময়ই পর্তুগালের নায়ক ছিল। কিন্তু তার যে সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত, তা তাকে দেওয়া হয় না। পর্তুগালের মানুষ রোনালদোকে যথাযথ মূল্যায়ন করে না। এটাই আমাদের দেশের মানুষের বাস্তবতা।’
জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর আকস্মিকভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আক্ষেপ করেছেন তাঁর মা। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাজিলে প্রচলিত একটি বাগধারার কথা উল্লেখ করেন, যার অর্থ কোনো জায়গা থেকে ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ বেরিয়ে যাওয়া। তবে দোলোরেস মনে করেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলের পক্ষেও যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমার খারাপ লাগছে, এটাই স্বাভাবিক। ঘটনাটি ছিল বড় একটা ধাক্কা। আমার ছেলে চাইলে সম্মানের সঙ্গে, বড় দরজা দিয়ে বিদায় নিতে পারত। কিন্তু তাকে ছোট দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে হলো। তবে ঠিক আছে, ঈশ্বর সবকিছু সামলে নেবেন।’



























