আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:07:59 pm, Thursday, 8 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড অব ডিরেক্টর ইসা কাজি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই এনসিটি পরিচালনায় এ চুক্তি সম্পন্ন হলো।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় এনসিটির মালিকানা ও মূল অবকাঠামো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) কাছেই থাকবে। টার্মিনালের জমি, মূল অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানাও বাংলাদেশের থাকবে। নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন এবং সার্বভৌম কর্তৃত্ব বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড নির্দিষ্ট মেয়াদে শুধু টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে রয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী বন্দরগুলোর তুলনায় এনসিটিতে কনটেইনার জাহাজের অবস্থানকাল, পণ্য খালাসের সময়, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

এসব সক্ষমতা বাড়াতেই আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড নিজস্ব অর্থায়নে এনসিটির আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করবে। প্রথম ১০ বছরে যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধনি বিনিয়োগের কথা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন দক্ষতা যুক্ত করবে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তির আওতায় সরকার বা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রতি ২০ ফুট সমপরিমাণ কনটেইনারের বিপরীতে টার্মিনালের গড় রাজস্বের ওপর নির্ভর করে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব অংশ বা রয়্যালটি পাবে সিপিএ। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

চুক্তিতে বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এ ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলছে, এনসিটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে কোনো ঋণ নিতে হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। ফলে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের সঙ্গে এ চুক্তির তুলনা করার সুযোগ নেই।

সংস্থাটির ভাষ্য, হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণে শ্রীলঙ্কা চীনা ঋণ নিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ঋণের চাপের মধ্যে ২০১৭ সালে ৯৯ বছরের জন্য বন্দর পরিচালনার অধিকার চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়। বিপরীতে এনসিটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাতেই থাকবে এবং কনসেশনের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ১৫ বছর। চুক্তিতে ট্রাফিক মূল্যায়ন, ঝুঁকি ভাগাভাগি, মুদ্রা বিনিময়জনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের বিধান রাখা হয়েছে।

অপারেটরের কার্যক্রম তদারকিতে সিপিএর ক্ষমতাও বহাল থাকবে। চুক্তিতে বিভিন্ন মূল কর্মদক্ষতা সূচক (কেপিআই), ধাপে ধাপে কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ও ক্রেনের উৎপাদনশীলতার মতো সূচকে টানা তিন মাস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত আর্থিক জরিমানা কার্যকর হবে। এ ছাড়া কনটেইনার ও জাহাজ পরিচালনা, রাজস্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

সিপিএর নিরীক্ষা ও তদারকির অধিকারও বহাল থাকবে। সরকার জানিয়েছে, এনসিটিতে কর্মরত স্থানীয় জনবলকে ধারাবাহিকভাবে কাজে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে বিদ্যমান কর্মীদের নতুন পরিচালন কাঠামোয় যুক্ত করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হবে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে ৮০টিরও বেশি সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৈশ্বিক কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১০ শতাংশ পরিচালিত হয় বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, এনসিটি পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলে।

২০২৩ সালের ২৩ মার্চ নীতিগত অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর লেনদেন কাঠামো প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ২৫ জানুয়ারি দরপত্র জমা পড়ে। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত দরকষাকষি চলে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড চুক্তিটি অনুমোদন করে এবং ১ অক্টোবর সিসিইএর অনুমোদন পাওয়া যায়।

তবে পুরো কনসেশন চুক্তি প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সরকার। তাদের ভাষ্য, চুক্তির মেয়াদ, অগ্রিম ফি, বিনিয়োগ, রাজস্ব ভাগাভাগি, ন্যূনতম কনটেইনার পরিচালনা, কর্মদক্ষতার সূচক, তদারকি ব্যবস্থা ও মালিকানার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রধান শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য ও পরিচালন কৌশল ভবিষ্যতের দরকষাকষিতে সরকারের অবস্থান দুর্বল করতে পারে—এ কারণে সেসব তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এশিয়ার দুই দেশ বাংলাদেশের পোস্টাল ভোটিং মডেল গ্রহণে আগ্রহী

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি

Update Time : 05:07:59 pm, Thursday, 8 October 2026

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড অব ডিরেক্টর ইসা কাজি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই এনসিটি পরিচালনায় এ চুক্তি সম্পন্ন হলো।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় এনসিটির মালিকানা ও মূল অবকাঠামো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) কাছেই থাকবে। টার্মিনালের জমি, মূল অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানাও বাংলাদেশের থাকবে। নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন এবং সার্বভৌম কর্তৃত্ব বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড নির্দিষ্ট মেয়াদে শুধু টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে রয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী বন্দরগুলোর তুলনায় এনসিটিতে কনটেইনার জাহাজের অবস্থানকাল, পণ্য খালাসের সময়, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

এসব সক্ষমতা বাড়াতেই আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড নিজস্ব অর্থায়নে এনসিটির আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করবে। প্রথম ১০ বছরে যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধনি বিনিয়োগের কথা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন দক্ষতা যুক্ত করবে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তির আওতায় সরকার বা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রতি ২০ ফুট সমপরিমাণ কনটেইনারের বিপরীতে টার্মিনালের গড় রাজস্বের ওপর নির্ভর করে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব অংশ বা রয়্যালটি পাবে সিপিএ। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

চুক্তিতে বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এ ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলছে, এনসিটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে কোনো ঋণ নিতে হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। ফলে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের সঙ্গে এ চুক্তির তুলনা করার সুযোগ নেই।

সংস্থাটির ভাষ্য, হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণে শ্রীলঙ্কা চীনা ঋণ নিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ঋণের চাপের মধ্যে ২০১৭ সালে ৯৯ বছরের জন্য বন্দর পরিচালনার অধিকার চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়। বিপরীতে এনসিটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাতেই থাকবে এবং কনসেশনের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ১৫ বছর। চুক্তিতে ট্রাফিক মূল্যায়ন, ঝুঁকি ভাগাভাগি, মুদ্রা বিনিময়জনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের বিধান রাখা হয়েছে।

অপারেটরের কার্যক্রম তদারকিতে সিপিএর ক্ষমতাও বহাল থাকবে। চুক্তিতে বিভিন্ন মূল কর্মদক্ষতা সূচক (কেপিআই), ধাপে ধাপে কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ও ক্রেনের উৎপাদনশীলতার মতো সূচকে টানা তিন মাস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত আর্থিক জরিমানা কার্যকর হবে। এ ছাড়া কনটেইনার ও জাহাজ পরিচালনা, রাজস্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

সিপিএর নিরীক্ষা ও তদারকির অধিকারও বহাল থাকবে। সরকার জানিয়েছে, এনসিটিতে কর্মরত স্থানীয় জনবলকে ধারাবাহিকভাবে কাজে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে বিদ্যমান কর্মীদের নতুন পরিচালন কাঠামোয় যুক্ত করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হবে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে ৮০টিরও বেশি সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৈশ্বিক কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১০ শতাংশ পরিচালিত হয় বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, এনসিটি পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলে।

২০২৩ সালের ২৩ মার্চ নীতিগত অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর লেনদেন কাঠামো প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ২৫ জানুয়ারি দরপত্র জমা পড়ে। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত দরকষাকষি চলে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড চুক্তিটি অনুমোদন করে এবং ১ অক্টোবর সিসিইএর অনুমোদন পাওয়া যায়।

তবে পুরো কনসেশন চুক্তি প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সরকার। তাদের ভাষ্য, চুক্তির মেয়াদ, অগ্রিম ফি, বিনিয়োগ, রাজস্ব ভাগাভাগি, ন্যূনতম কনটেইনার পরিচালনা, কর্মদক্ষতার সূচক, তদারকি ব্যবস্থা ও মালিকানার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রধান শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য ও পরিচালন কৌশল ভবিষ্যতের দরকষাকষিতে সরকারের অবস্থান দুর্বল করতে পারে—এ কারণে সেসব তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।