ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হালুয়াঘাটে পুকুর থেকে গলায় গামছা পেঁচানো শিশুর মরদেহ উদ্ধার ও মুক্তাগাছায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম ধুরাইল এলাকার একটি পুকুর থেকে মাসতুবা (৪) নামে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
নিহত মাসতুরা ওই এলাকার আবু সাইদের মেয়ে। একই দিন বিকালে মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের কামারিয়া গ্রামে বজ্রপাতে মজিবর রহমান (৩২) নামে যুবকের মৃত্যু হয়। এ সময় ওই যুবকের মা মরিয়ম বেগম আহত হন। নিহত মজিবর ওই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে মজিবর খেত থেকে মুখি কচু উঠাতে যান। এসময় হঠাৎ বৃষ্টি পড়া শুরু করলে তিনি খেত থেকে বাড়িতে ফিরেন।
ঘরের বারান্দায় বসে তিনি উঠিয়ে আনা কচু বিক্রির জন্য বাজারে নিতে পরিষ্কার করছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় বজ্রপাতে আহত হয় তার মা মরিয়ম বেগম। মরিয়ম বেগম স্থানীয় চেচুয়া বাজার ব্র্যাক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত কৃষক মজিবর রহমান মাত্র এক মাস আগে কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের পাশাপাশি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শণ করেছে। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মাসতুরা।
আত্মীয়স্বজনরা বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাড়িসংলগ্ন একটি পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। পরে স্বজনরা গিয়ে পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় শিশুটির গলায় পেঁচানো ছিল। এছাড়া গলায় কালচে দাগ রয়েছে। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে আছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মরদেহ ময়নাতদন্তেন জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























