আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

চাঁদপুরের কচুয়ায় আদালতের নির্দেশে বসতঘর ফিরে পেলেন ভুক্তভোগী নারী

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:24:03 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • 11
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চাঁদপুরের কচুয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারীকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির পাশাপাশি মারধর ও গলায় চাপ দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আসামিরা ওই নারীর ঘরের দরজায় দুটি তালা মেরে ঘর থেকে বাহির করে দেয়।

মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক কচুয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলার ব্যবস্থা করেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন। এরপর বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৩টায় কচুয়া থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলেদেন। রাতে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরি গ্রামের গাজী বাড়িতে বাদী রাশিদা বেগমের (৪২) বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর কচুয়া আমলী আদালতে সি.আর মামলা নং-৯১৯/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন-আইনগিরি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৪৫) এবং মো. মোবারক হোসেনের ছেলে মো. আজিদ উল্লাহ (৪০)।

অভিযোগে আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে রাশিদা বেগম দাবি করেন, তার স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ার পর তিনি ছেলে রাসেল ওরফে মানিককে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করায় তার ছেলে রাসেলকে একটি চুরি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন আসামিরা রাশিদা বেগমকে ও ছেলে রাসেলকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক বসতঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন দুই হাত দিয়ে বাদীর গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময় আসামিরা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনাটি দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে বাদী ও তার ছেলে রাসেলকে ধারালো ছেনি দিয়ে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী রাশিদা বেগম মুঠো ফোনে জানান, বিচারকের নির্দেশের কারণে আমি ঘরে আবারও বসবাসের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমি শঙ্কায় রয়েছি, যে কোন সময় আসামীরা আমার ও সন্তানের ক্ষতিকরতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আটলান্টিক মহাসাগরে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সকল আরোহী

চাঁদপুরের কচুয়ায় আদালতের নির্দেশে বসতঘর ফিরে পেলেন ভুক্তভোগী নারী

Update Time : 10:24:03 pm, Wednesday, 7 October 2026

চাঁদপুরের কচুয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারীকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির পাশাপাশি মারধর ও গলায় চাপ দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আসামিরা ওই নারীর ঘরের দরজায় দুটি তালা মেরে ঘর থেকে বাহির করে দেয়।

মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক কচুয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলার ব্যবস্থা করেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন। এরপর বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৩টায় কচুয়া থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলেদেন। রাতে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরি গ্রামের গাজী বাড়িতে বাদী রাশিদা বেগমের (৪২) বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর কচুয়া আমলী আদালতে সি.আর মামলা নং-৯১৯/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন-আইনগিরি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৪৫) এবং মো. মোবারক হোসেনের ছেলে মো. আজিদ উল্লাহ (৪০)।

অভিযোগে আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে রাশিদা বেগম দাবি করেন, তার স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ার পর তিনি ছেলে রাসেল ওরফে মানিককে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করায় তার ছেলে রাসেলকে একটি চুরি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন আসামিরা রাশিদা বেগমকে ও ছেলে রাসেলকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক বসতঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন দুই হাত দিয়ে বাদীর গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময় আসামিরা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনাটি দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে বাদী ও তার ছেলে রাসেলকে ধারালো ছেনি দিয়ে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী রাশিদা বেগম মুঠো ফোনে জানান, বিচারকের নির্দেশের কারণে আমি ঘরে আবারও বসবাসের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমি শঙ্কায় রয়েছি, যে কোন সময় আসামীরা আমার ও সন্তানের ক্ষতিকরতে পারে।