আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

ময়মনসিংহে ২ লাখ টাকায় ১৩ মাসের শিশু বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:54:27 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই সাথে শিশুটির দাদা, দাদিসহ পাঁচজনকে ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। পরে এ ঘটনায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাসিন্দা শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।

সকালে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় উল্লখ্য করা হয়, শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় বাবার বাড়িতে। রোজিনা পরে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে তার স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত জনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চান।

এ সময় তাকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে তাদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালন পালনের জন্য তারা নিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। তিনি আরও বলেন, শিশুটি নিরাপদে আমাদের কাছে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আসামিদের আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নাটোরে নাটোর রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা চুরি

ময়মনসিংহে ২ লাখ টাকায় ১৩ মাসের শিশু বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

Update Time : 10:54:27 pm, Wednesday, 7 October 2026

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই সাথে শিশুটির দাদা, দাদিসহ পাঁচজনকে ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। পরে এ ঘটনায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাসিন্দা শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।

সকালে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় উল্লখ্য করা হয়, শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় বাবার বাড়িতে। রোজিনা পরে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে তার স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত জনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চান।

এ সময় তাকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে তাদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালন পালনের জন্য তারা নিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। তিনি আরও বলেন, শিশুটি নিরাপদে আমাদের কাছে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আসামিদের আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।