পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ৩২ আরোহী নিয়ে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী এবং সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) নিয়মিত মিশনে বেনিন সিটি থেকে লাগোস যাওয়ার পথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওন্দো প্রদেশে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়ায় এটি অন্যতম প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা। প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ২৫ যাত্রী ও সাত ক্রু সদস্যের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বায়ো ওনানুগা জানান, নিহত বিমানবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন টিনুবু।
একই সঙ্গে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনার খবর দেওয়ার পর বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও বিমানমন্ত্রী ফেস্টাস কেইয়ামো জানান, একটি নৌঘাঁটির কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। এটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিমানে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর কাছাকাছি এলাকায় বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। সেখানে উদ্ধারকারীদের নৌকায় করে তল্লাশি চালাতেও দেখা যায়।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনীকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট টিনুবু। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী জ্বালানি কাঠ বিক্রেতা দায়ো আকিন্তে এএফপিকে বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনেছিলেন। তার কাছে শব্দটি বজ্রপাতের মতো মনে হয়েছিল।
ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর তিনটি বিমানকে ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখেছেন। তিনি আরও বলেন, জলাভূমিতে মাছ ধরতে যাওয়া এক ব্যক্তি প্রথমে কাছের নৌঘাঁটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনার খবর দেন। এর আগে বিমানবাহিনীর মুখপাত্র এহিমেন এজোদামে জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশও বিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। ইগবোকোদা নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ইলাজেতে অবস্থিত। দেশটিতে এর আগেও বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী সামরিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মে মাসে উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নাইজেরিয়ার তৎকালীন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইব্রাহিম আতাহিরুসহ আরও ১০ কর্মকর্তা নিহত হন।
খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের আগস্টে উত্তর নাইজেরিয়ায় একটি সামরিক বিমান একটি বাড়ির ওপর বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা সাতজনই মারা যান। একই মাসের শুরুতে লাগোসে একটি হেলিকপ্টার উপহ্রদে বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পাইলট।





















