সমুদ্রের সবচেয়ে মিষ্টি ও বুদ্ধিমান প্রাণী কোনটা বললে আমরা সবাই একবাক্যে বলব, ডলফিন! তাদের কা-কারখানা দেখতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু এই ডলফিনদের ঘুমানোর স্টাইল শুনলে তোমার চোখ কপালে উঠবে?
আমরা যখন রাতে ঘুমাতে যাই, তখন কি করি? দুটি চোখ বন্ধ করে একদম গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই, তাই না? কিন্তু ডলফিন যদি মানুষের মতো দু’চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে সে সোজা মারা যাবে! তাই ডলফিন যখন ঘুমায়, তাদের একটা চোখ সব সময় আধা-খোলা থাকে! এর পেছনে প্রধানত দুটি জীবন-মরণ কারণ আছে। চলো জেনে নেওয়া যাক- ডলফিনকে শ্বাস নিতে হয় : মানুষ যেমন ঘুমের ঘোরেও না দেখেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্বাস নেয়, ডলফিন কিন্তু তা পারে না।
পানির নিচে থাকলেও ডলফিন কিন্তু মাছ নয়, এরা স্তন্যপায়ী প্রাণী। শ্বাস নেওয়ার জন্য তাদের নির্দিষ্ট সময় পর পর পানির ওপরে আসতেই হয়। বিপদের ভয় : ঘুমানোর সময় হাঙ্গর বা অন্য কোনো শিকারি প্রাণী এসে আক্রমণ করতে পারে! তাই প্রকৃতি ডলফিনদের এক দারুণ সুপারপাওয়ার দিয়েছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’।
এর মানে হলো, ডলফিন যখন ঘুমাতে চায়, তখন তার মাথার মস্তিষ্কের মাত্র একটি অর্ধেক অংশ (হেমিস্ফিয়ার) ঘুমায়, আর বাকি অর্ধেক অংশ একদম জেগে থাকে! যদি ডলফিনের মস্তিষ্কের বাম পাশ ঘুমায়, তবে তার ডান চোখ বন্ধ থাকে। আর তখন ডান পাশ জেগে থেকে চারপাশের পরিবেশ পাহারা দেয় এবং ঠিক সময়ে পানির ওপরে উঠে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করে। কয়েক ঘণ্টা পর ব্রেন রিচার্জ হয়ে গেলে তারা আবার সাইড চেঞ্জ করে ডান পাশ ঘুমায় আর বাম চোখ বন্ধ হয়!
এখন থেকে ক্লাসে যদি কোনো বন্ধু এক চোখ খোলা রেখে ঘুম ঘুম চোখে বসে থাকে, তাকে পাজল না করে সোজা বলতে পার ‘কীরে, নিজেকে কি সমুদ্রের ডলফিন ভাবছিস নাকি!






















