চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আলোচনায় আসা তরুণ নেতাদের একজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ওপর হামলা, ডিম নিক্ষেপ ও বিক্ষোভের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কেন বারবার টার্গেট হচ্ছেন তিনি? এর নেপথ্যেই বা কি? রোববার (৪ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় তার ওপর হামলার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
এবার দিয়ে তরুণ এই রাজনীতিকের ওপর পাঁচবারের মতো হামলার ঘটনা ঘটলো বলে দাবি করেছে এনসিপি। হামলার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকারের সময় এটি নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর উপর পঞ্চমবারের মতো হামলা। ’ ‘বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না,’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হাসনাত লেখেন, ‘হামলা করে পাটওয়ারীদের কেউ থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ। ’ ‘ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর যে লড়াই শুরু হয়েছে, কোনো বাধাই তা থামাতে পারবে না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে,’ বলেন হাসনাত। ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও।
ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এটি পঞ্চমবারের মতো হামলা। একজন নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এতটা উন্মাদ হতে পারে? ’ তিনি বলেন, ‘এবার কুষ্টিয়ায় মাজারের ভেতরে প্রবেশ করে পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ’ ‘ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না,’ বলে হুঁশিয়ারি দেন সারজিসও। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিএনপিসহ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনায় সরব নাসীরুদ্দীন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপক্ষে নির্বাচন করে ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পান তিনি।
প্রায় ৫ হাজার ২৩৯ ভোটে পরাজয়ের পর ভোটে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তোলেন। নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে তার কড়া বক্তব্য বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ তৈরি করে। পাশাপাশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়েও মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়েছিল।
আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক এমনকি প্রশাসনের খবরদারি কোনো কিছুই আটকাতে পারেনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে। তার একের পর এক ঝাঁঝালো বক্তব্যে নাজেহাল হয়েছেন রাজনীতিকরা। এতে করে প্রায় সময় খবরের শিরোনামও হয়েছেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাসীরুদ্দীনকে টার্গেট করার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়; এর সঙ্গে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানও জড়িত।
এনসিপি এখন একটি দৃশ্যমান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠায় প্রায় সব সংগঠনগুলো দলটিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি নাসীরুদ্দীনের বক্তব্যের ধরনও তাকে টার্গেট করার সুযোগ তৈরি করছে। তাদের মতে, পুরো বিষয়টি বুঝতে হলে দুটি দিক একসঙ্গে দেখতে হবে—এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের ধরন। এই দুইয়ের সমন্বয়েই নাসীরুদ্দীন রাজনৈতিকভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।























