দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় এখনো শুরু হয়নি ইউরিয়া উৎপাদন। স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হলেও উৎপাদন হচ্ছে না এক কেজি সারও।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ন্যূনতম ৪২-৪৩ এমএমসিএফ চাপ পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালানো সম্ভব। বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২৭-২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম চাপ থাকায় স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও মূল উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের কারণে টানা সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত থাকলে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় গত ১১ দিনে স্টার্ট-আপ কার্যক্রমে প্রায় ২৮-৩৩ কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে।
অথচ এ সময়ে সার উৎপাদন হয়েছে শূন্য। এ অবস্থায় একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন না হওয়ায় তৈরি হচ্ছে আর্থিক ক্ষতি। দীর্ঘদিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া এবং ১ হাজার ৭৮ টন অ্যামোনিয়া।
তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে যমুনা সার কারখানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় এসব এলাকায় সার সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সার উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা দুই-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় চাপ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের আশা, দ্রুত গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে যমুনা সার কারখানা।
এতে দীর্ঘদিনের উৎপাদন ঘাটতি কিছুটা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং স্টার্ট-আপে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ গ্যাসেরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।





















