ক্ষমতায় আসার পর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, হামলা, ভাঙচুর ও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানান দিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বিতর্কিত কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।
সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের ভেতরের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকার গঠনের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ বাড়তে থাকায় দলের ভাবমর্যাদা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকা-ের লাগাম টানতে তৃণমূল থেকে অভিযোগ সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে দলীয় বিশৃঙ্খলার দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সরকার গঠনের পরও দলের একটি অংশের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ সামনে আসছে। এতে সরকারের ভালো কাজগুলোও বিতর্কিত হচ্ছে বলে দলের নেতারা মনে করছেন। মিরপুরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা যখন ঘটে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন জাতিসংঘে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরবের বার্তা দিয়ে দেশে ফিরেই তাকে মুখোমুখি হতে হয় দলের কিছু নেতাকর্মীর সামাজিক অপরাধের বিব্রতকর ঘটনায়। রাড্ডার ঘটনা ছিল এর অন্যতম। শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা চলে আসছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারেনি। বর্তমান বিএনপি সরকারের সাড়ে সাত মাসেও সেই অস্বস্তি কাটেনি; বরং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে; বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একের পর এক অপরাধের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যেই ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা এবং সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর-লুটপাট করা হয়।
একই দিন ভোরে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেদিনই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে কয়েকশ লোক একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর করে টাকা ও যন্ত্রপাতি লুট করে। এসব ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কঠোর কি না।
এই বাস্তবতায় রাড্ডার ঘটনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের আলাদা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া নয়; নিজ দলের নেতাকর্মীদের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর একটি স্পষ্ট বার্তাÑ অপরাধ বা অনিয়মে রাজনৈতিক পরিচয় ঢাল হবে না। রাড্ডার ঘটনায় দলীয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা সেই বার্তাকেই সামনে এনেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগের আগেই বুধবার রাতে বিএনপি ও যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদলের মহানগর পশ্চিম কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার আলোচনার মধ্যেই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে।
যদিও রাড্ডাকা-ে প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের আরও কারো কারো সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা আছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নানাভাবে, নানা সুযোগে দলে ঢুকেছে, অথবা দল করেছেÑ অর্থাৎ, যারাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনৈতিক ও গর্হিত কর্মকা-ে যুক্ত হবে, তাদের কেউই ছাড় পাবে না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন; বিশেষ করে রাড্ডার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে গত কয়েক দিনে একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেন। তারা রাড্ডার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশে একটি সরকার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় একটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা লজ্জাজনক। এমন একটি ঘটনার পর মুখ দেখানোর জো নেই সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের। তবে এখানেই সরকারের জন্য একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জমে থাকা অস্বস্তি শুধু রাড্ডার একটি ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়ে কাটবে কি না। সারা দেশে সংঘটিত আরও ঘটনার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার ছায়ায় অপরাধের অভিযোগ উঠলে একই কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে কি না, সেটি দেখার বিষয় হয়ে উঠবে।
একই ধরনের কঠোরতা অব্যাহত থাকলেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে, মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের ব্যক্তিরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, শুধু রাড্ডার ঘটনাই নয়, যেখানে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটবে, সেখানেই অ্যাকশন হবে। অপরাধীদের সঙ্গে কোনো রকম আপস করার কোনো সুযোগ নেই। সে দলের হোক, আর দলের বাইরে হোক।
ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন হবে। সে বার্তাই দেওয়া হয়েছে। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে দেশের ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় পরিবর্তন’ বলে মনে করছি আমরা। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে হয়, প্রশংসা করতে হয় এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকা- নজরদারির জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে জরুরিভাবে।
জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকার এখন ক্ষমতায়। এই সরকারের সময়ে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের মতো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি চলবে, তা কারো কাম্য হতে পারে না। অথচ, এই সরকারের বিগত আট মাসে এ ধরনের অভিযোগের অন্ত নেই। সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস করবে, দখলবাজেরা দখলবাজি করবে, চাঁদাবাজেরা চাঁদাবাজি করবে, লুটেরারা লুটতরাজ করবে আর তাদের সঙ্গে সরকার ও সরকারি দলের কোনো সংস্রব থাকবে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ থাকবে না, এ কথা দেশের মানুষ মোটেই বিশ্বাস করে না।
এটা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে, রাজনৈতিক দলের লোকেরা কোনো অন্যায়-অপকর্ম করলে দলের যে ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণœ হয়, সেটা সহজে জোড়া লাগানো যায় না। তাই দলের লোকেরা কে কোথায় কী করছেন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এ জন্য সৎ ও ন্যায়পরায়ণ লোকদের দিয়ে একটি কমিটি করা হলে তাতে জন-আস্থা তৈরি হবে। গুটিকয়েক ব্যক্তির অপরাধের দায় গোটা দল নিতে পারে না।
দলীয় আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ কর্মকা-ে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। যারা সরকার ও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানের কথা ভাবছে সরকার। তবে এটি ২০০৪ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান চলছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বারবার চাঁদাবাজি, জমি দখল, সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে, তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
তৃণমূল থেকে অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে দলের পরিচয় ব্যবহার করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ যাচাই করে মোকাবিলা করা হবে; অর্থাৎ প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবিলার অবস্থান নিয়েছে দলটি।
একই সঙ্গে আমরা জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের একজন সাংসদের ব্যক্তিগত জীবনে নারীঘটিত ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে দলটি।
তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে এই সংসদ সদস্য কারাগারে আটক রয়েছেন। তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিয়েছে।
অতীতে পতিত স্বৈরাচারের আমলে ক্ষমতাসীন এবং তৎকালীন গৃহপালিত বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী, সাংসদ, নেতাকর্মীরা দেদার অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। জনমনে অসন্তোষ, ক্ষোভ, জনরোষ বাড়লেও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল সেগুলো মোটেও গ্রাহ্য করেনি।
তবে বর্তমান সরকারের আমলে সংঘটিত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখলদারি, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটা বিএনপির ক্ষুণœ হওয়া ভাবমূর্তি ও ইমেজ পুনরুদ্ধারে বিরাট ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও তার বিচক্ষণতা এবং ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো জনমনে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। এভাবে তিনি অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও লুটপাটের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখবেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের সফরে দেশের বাইরে ছিলেন। এই চার দিনের দুদিনে ঢাকায় যা ঘটেছে, তা বিচলিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। টিআইবি ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বলে বিবেচনা করেছে।
বলছে, এটা সরকার ও সরকারি দলের জন্য অশনিসংকেত। টিআইবি দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং দলে শুদ্ধি অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। টিআইবির প্রস্তাব বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। অনেকেরই স্মরণ থাকার কথা, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার সময় ‘অপারেশেন ক্লিন হার্ট’ চালিয়েছিলেন বাধ্য হয়ে এবং দলের অনেক বেপথু নেতাকর্মী তার শিকার হয়েছিল।
অতীতের দৃষ্টান্ত তো আছেই; প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় অনুরূপ অভিযান চালাতে হবে। বিনিয়োগ, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, নাগরিক জীবনমানের উন্নতি যা কিছুই বলা হোক না কেন, এগুলোর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বগুণ ও নেতৃত্ব আমাদের দেশের জন্য আশীর্বাদতুল্য।
তার মালয়েশিয়া ও চীন সফরে এর প্রমাণ মিলেছে। জাতিসংঘে তার অবস্থান ও সম্মানও এর সাক্ষ্য বহন করে। আমরা আশা করব, দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির যে সম্ভাবনা তার উচ্চ নেতৃত্বে দেখা দিয়েছে, তা কার্যকর করার জন্য তিনি প্রয়োজনে সুচিন্তিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।





















