দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন সড়কের আশায় বুক বেঁধেছিলেন পবা ও তানোর উপজেলার মানুষ। কিন্তু প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্বাসনাধীন সড়কের আরসিসি ঢালাই শেষ হওয়ার বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনায় সেই আশার মূলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেস প্রস্তুতিতে ত্রুটি, মাটি যথাযথভাবে কম্প্যাকশন না করা এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে প্রকৌশলীদের দাবি, নি¤œমানের কাজ নয়, মূলত দুর্বল ‘অর্গানিক সয়েল’, অতিবৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের চাপেই সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ‘বায়া-কাশিম বাজার-তানোর সড়ক পুনর্বাসন কাজ (প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ)’ প্রকল্পের আওতায় ৯ কিলোমিটারের বেশি সড়ক পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
প্রায় ১৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে গত ৯ মে এবং আগামী বছরের ১২ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কাজটি পেয়েছে জুয়েল ইলেকট্রনিকস নামের নওগাঁর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজ করছেন রাজশাহীর চারজন ঠিকাদার। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পবার বড়গাছী ইউনিয়নের বায়া থেকে তানোরের আগপর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও কাজ চলছে।
এর মধ্যে ইউনিয়নের বাকসাড়া-নওদাপাড়া এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে ইতিমধ্যে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তবে সেই ঢালাইয়ের একাধিক স্থানে চওড়া ও সরু ফাটল দেখা দেয়। কোথাও কোথাও আবার সড়কের অংশবিশেষ দেবে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের আগে সড়কের নিচের অংশ যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি এবং মাটি শক্ত করতে পর্যাপ্ত রোলার চালানো হয়নি।
নওহাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. নাজমুল হুদা মোল্লা জানান, গর্ত খননের পর মাটি ভালোভাবে কমপ্যাক্ট করা হয়নি। রোলার না চালানোর কারণে এক পাশে সড়ক দেবে গেছে, অন্য পাশে ফাটল ধরেছে। তার দাবি, কাজের মান ৫০ শতাংশও হয়নি। ঢালাইয়ের পুরুত্ব কম এবং বালু বেশি, খোয়া কম দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলী ও আব্দুল জলিল বলেন, সড়কের কিছু অংশে অপরিষ্কার জায়গার ওপরই ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
নিচের মাটিও ভালোভাবে শক্ত করা হয়নি। রোলারও ঠিকমতো চালানো হয়নি। ফাটল ধরা অংশ তুলে নিচের মাটি শক্ত করে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢালাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় ভাইব্রেশন যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিল বলে দাবি করেন তারা। কৃষক মো. আব্দুস সালাম বলেন, মাঠে কাজ করার সময় তারা সড়কের নির্মাণকাজ দেখেছেন। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ আরও সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার।
নির্মাণে ত্রুটি থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ নাকচ করে পবা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর মানে কোনো সমস্যা নেই। সড়কের নিচের মাটি ‘অর্গানিক সয়েল’ হওয়ায় পানি পেলে এর ভার বহনের সক্ষমতা কমে যায়। ফলে ওপরের কাঠামোর চাপ নিতে না পেরে কোথাও কোথাও মাটি দেবে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি এবং সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলও ঢালাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকল্পের নকশা সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে তিন ইঞ্চি সিসি ঢালাইয়ের পাশাপাশি ১২ ইঞ্চি আরসিসি এবং দুই স্তরের রডের জালিসহ কর্নার বার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রনিক্সের ঠিকাদার মো. ইউনুস আলী বলেন, ঢালাই দেওয়ার পর অন্তত ২৮ দিন ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা প্রয়োজন।
কিন্তু সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঢালাইয়ের পরও ভারী যানবাহন চলাচল করেছে। এ ছাড়া বাকসাড়া-নওদাপাড়া এলাকার মাটির বেস তুলনামূলক দুর্বলÑ এমন পরিস্থিতিতে কাজ করার বিষয়ে আমাদের আপত্তির কথাও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল।





















