সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার অন্তর্গত ও এনায়েতপুর থানার অধীন সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা বাঁধে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কয়েক দিনে বাঁধের প্রায় ৩৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে গেছে। এ অবস্থায় এলাকার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং শত শত বসতবাড়ি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দিশেহারা এলাকাবাসী অবিলম্বে টেকসই মেরামত ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নদীতীরে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।
এর প্রভাবেই সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের পূর্বপ্রান্তের বারবয়লা থেকে বোয়ালকান্দি পর্যন্ত এলাকার অন্তত তিনটি স্থানে তীররক্ষা বাঁধে ধস ও ভাঙন ধরেছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী এলাকায় বড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ে অসহায় মানুষ তাদের বসতঘরের চাল, টিন ও প্রয়োজনীয় আসবাব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অনেকে পলিথিন টানিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালকান্দি ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার অংশবিশেষ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রায় আড়াই বছর আগে ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই তীররক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের স্বল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ায় এর মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এলাকাবাসী।
বোয়ালকান্দি গ্রামের কৃষক ও ভুক্তভোগী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘সারা জীবনের জমানো টাকায় নিজ ভিটায় একখানা ঘর তুলেছিলাম। কিন্তু বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গত দুই দিনেই বসতভিটা চোখের সামনে নদীগর্ভে চইলা গেছে। এখন ঘরের টিন আর কিছু আসবাব খুইলা রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টাঙায়া রাইখাছি। ’ ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতভিটা ও সবজিখেত নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধের এ অংশটুকু দ্রুত রক্ষা করা না গেলে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে স্থানীয় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হওয়ায় এলাকার কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় একটি সরকারি প্রকল্প হুমকির মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য জেল হক আলী বলেন, নদীভাঙন যমুনাপারের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ। ১১৩ কোটি টাকার তীররক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে প্রায় ৩৫০ মিটার ভেঙে বিশাল খাদ সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বসতবাড়ি রক্ষার্থে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
সচেতন মহলের মতে, ভাঙন এলাকাটি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এই সুযোগে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। তারা অবিলম্বে দুই জেলার পাউবোর যৌথ উদ্যোগে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভাঙন এলাকা তদারকির দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাখিল রায়হান বলেন, ‘ভাঙন এলাকার মূল কাজটি বর্ষার সময়ে সিরাজগঞ্জ পাউবো অফিস বাস্তবায়ন করেছিল।
তবে টাঙ্গাইলের সীমান্তবর্তী হুঘরা এলাকার ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।






















