রাজধানীর হাজারীবাগের পশ্চিম ধানমন্ডিতে একটি ১০ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে মোহাম্মদ সদলক খান বাবু (৩৫) নামে এক রংমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনের কেয়ারটেকার ও দারোয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত বাবু মৃত ইদ্রিস খানের ছেলে। তিনি হাজারীবাগের শংকর জাফরাবাদ ২৭৯/১ নম্বর ১০ তলা ভবনের বেসমেন্টে বসবাস করতেন। হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ভবনের মেইন গেটে দারোয়ান বাঁধন দিও-এর সঙ্গে বাবুর হাতাহাতি হয়। পরে বাবু ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে এনে দারোয়ানকে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন।
দারোয়ানের চিৎকারে বাবুর লোকজন পালিয়ে যায়। এরপর বাসার কেয়ারটেকার মিল্টন (৪২) ঘটনাস্থলে আসেন। বাবু পালানোর জন্য সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে একই ভবনের ১০ তলার ছাদে ওঠেন। ১-২ মিনিট পর কেয়ারটেকার তিনজন সঙ্গী নিয়ে ছাদে ওঠেন। এর এক মিনিট পর তারা নিচে নেমে আসেন। কিছুক্ষণ পরই গ্যারেজের ওপর প্লাস্টিক টিনের চালার ওপর বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
আমরা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত ৯ টায় দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাই। এসআই আরও জানান, নিহতের পরনে নীল জিন্স ও হালকা পিংক টি-শার্ট ছিল। শরীরে ধূলা বালি লেগে ছিল। পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত আড়াআড়ি ছিলে যাওয়া লালচে ও বেগুনি ক্ষতছিল, দুই হাতের কনুইয়ে চামড়া ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ এবং ঠোঁটে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তাকে মেরে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মো. মিল্টনকে প্রধান আসামি করে বাসার দারোয়ান বাঁধন দিও-কে আসামিসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মো. মিল্টন এবং বাঁধন দিওকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতের মা সুফিয়া বেগমের অভিযোগ করে জানান, আমার ছেলে মাজেদা ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি রংয়ের কাজ করতো। ওই বিল্ডিংয়ে কাজ করে তার তিন লাখ টাকা পাওনা হয়। মালিক ঠিকমতো টাকা দিচ্ছিল না, দেড় লাখ দেওয়া হয়েছিল। কাল বিকেলে গ্যারেজে থাকা রংয়ের সরঞ্জাম আনতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি, এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে মেরে তাকে তাকে কিছু খাইয়ে উপর থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই। এসব বিষয় নিয়ে বাসার মালিক এবং দারোয়ানের সাথে তার মাঝে মাঝে ঝগড়া হত।






















