আসিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর দল যখন হতাশায় নিমজ্জিত, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও জুনিয়র সোহেল রানাকে ঘিরে একটি নাইট ক্লাবের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার এক নারী, আলানা নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সাদ ও সোহেল রানার সঙ্গে তিন নারীকে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাদের গান ও নাচের পরিবেশেও দেখা গেছে। বাংলাদেশের এত বড় হারের পরপরই এসব ছবি ও ভিডিও সামনে আসায় অনেকের ধারণা হয়, ম্যাচের পরই দুই ফুটবলার নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন।
তবে সাদ ও সোহেল এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগেই তারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই আলানার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একটি সংবাদমাধ্যমকে তারা জানান, মোহামেডানে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে তারা অবসর সময়ে নেপাল ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি ক্লাবেই আলানার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনা ইন্দোনেশিয়া কিংবা জাকার্তায় ঘটেনি। তবে আলানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্লাবে তার দেখা হয়েছিল। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ দেখার জন্যও নাকি তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমনকি নিজের দেশের পরিবর্তে বাংলাদেশের সমর্থনে গলা ফাটানোর বিষয়টি মজার হতো বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
পরে অবশ্য আলানা সেই পোস্ট সরিয়ে নেন। তার প্রকাশ করা ভিডিও অন্য কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলোও মুছে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। অনুরোধ উপেক্ষা করা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন। এবারের আসিয়ান কাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মঞ্চ, যেখানে প্রথমবারের মতো কোনো ফিফা টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দলটি। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল তো আসেইনি, বরং বড় ব্যবধানে হেরে হতাশাজনকভাবেই অভিযান শেষ করতে হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুই ফুটবলারকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও ও ছবিতে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।





















