আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

৬০০ টাকায় কেনা সনদে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক দারাজের চালক নয়ন মন্ডল

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:07:15 am, Friday, 2 October 2026
  • 9

৬০০ টাকায় কেনা সনদে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক দারাজের চালক নয়ন মন্ডল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পেশায় দারাজের চালক ৪০ বছর বয়সী নয়ন মন্ডল জীবনে কখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় যাননি। তবে রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট কিনে তিনি এখন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৭৮৯ সদস্যের কমিটিতে ৪৮৫ নম্বর সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি পরিচয় গোপন করে পাওয়া পদের নাম ভাঙিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার নিজ এলাকার বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিসহ অনেকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেছেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছেও পদের নাম ভাঙিয়েছেন তিনি।

তবে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রাপ্ত এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নয়ন মন্ডল ঘোড়াঘাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নদীভাঙনের ফলে ১০-১২ বছর ধরে তার পরিবার ঘোড়াঘাটে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ফুলছড়িতে তার বাড়িঘর, ব্যবসা বা অন্য কোনো কিছু নেই। তবে বাড়িঘর না থাকলেও ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যমতে, তিনি ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার প্রতিবেদককে বলেন, ‘নয়ন মন্ডলকে আমি জীবনে কোনো দিন সামনাসামনি দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তবে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সে দুদিন আমাকে ফোন করেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এজিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নয়, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের এজিএস।

তবে পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। ‘ব্যবসার খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই উপজেলায় তার কোনো ব্যবসা তো দূরের কথা, বাড়িঘরও নেই। তারা ঘোড়াঘাট উপজেলায় বসবাস করে। তখন উপজেলা সার ডিলার কমিটির মিটিং থেকে তার নাম বাদ দিয়ে জেলায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন শুনছি, জেলা থেকে তার নাম মন্ত্রণালয়ে গেছে। বিষয়টি শুনে আমি হতবাক। কোন খুঁটির জোরে এটা সম্ভব?

’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত নয়ন মন্ডল তার বংশের চাচা ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট করার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক রোকন মন্ডলের পক্ষে আবেদন করেছেন এবং পদের প্রভাব খাটাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। যে ছেলে জীবনে কোনো স্কুলে যায়নি, পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার, সে কীভাবে মহানগর ছাত্রদলের এত বড় পদে থাকে? ’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়ন মন্ডল জীবিকার তাগিদে ২০০৮-০৯ সালের দিকে ঢাকায় আসেন।

প্রথমে চাকরি নেন আওয়ামী লীগ নেতা ও নিটল-টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুবুর রহমানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে। সেখানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। পরে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে অনলাইন সুপারশপ দারাজ বাংলাদেশের ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেন। দারাজের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোস্তফা জামান খান জানিয়েছেন, তিনি এখনো সেখানে কর্মরত।

২০২১ সালে জসিম শিকদার রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলে নিজের ড্রাইভার পরিচয় লুকিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের কর্মী পরিচয়ে তার কাছে ভিড়েন নয়ন মন্ডল। ড্রাইভারের চাকরির ফাঁকে ফাঁকে মাঝেমধ্যে জসিম শিকদার রানার ফুট-ফরমায়েশ খাটতে ছুটে যেতেন নয়ন মন্ডল। এর ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নবগঠিত বনানী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে যান তিনি।

কমিটি গঠনের সময় এসএসসির যে সার্টিফিকেট জমা দেন, তা রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে। নয়ন মন্ডলের বনানী থানা ছাত্রদলের সেই কমিটির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, ‘তাকে কমিটিতে রাখার সময় তৎকালীন মহানগর আহ্বায়ক রানা ভাইয়ের কাছে যে এসএসসির সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল, সেটি তখনই জাল বলে প্রমাণ হয়।

তবুও ওপরের নেতাদের চাপে তাকে রাখতে বাধ্য হই। ‘কমিটি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমি তাকে চিনতাম না। কমিটি হওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছরে তাকে মাত্র একটি প্রোগ্রামে উপস্থিত পেয়েছিলাম। তাছাড়া তাকে প্রোগ্রামের জন্য কল দিলেই বলত, ভোলা, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামে আছি, ট্রিপ নিয়ে। আমার জানামতে, নয়ন মন্ডল এখনো দারাজের আন্তজেলা ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত এবং তার বয়স আমার থেকে অন্তত ১২-১৫ বছর বেশি।

’ এ বিষয়ে মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, ‘নয়ন মন্ডল যদি পেশায় ড্রাইভার হয়ে থাকেন এবং ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরে এজিএস হয়ে থাকেন, তাহলে তার যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

’ ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার নিজ এলাকার বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিসহ অনেকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অন্যায়কারীকে ছাড় দিচ্ছেন না। নয়ন মন্ডল যদি মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে অন্যায্য ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা কিংবা কাউকে হুমকি দিয়ে থাকেন, তাহলে কেউ আমাদের জানালে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

’ নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এত বড় কমিটিতে সবাইকে চেনা সম্ভব নয়। প্রথমত, নয়ন মন্ডলকে আমি চিনি না। তবে সে যদি সত্যিই ড্রাইভার হয় এবং তথ্য গোপন করে ও ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে পদ নিয়ে থাকে, তাহলে সে অনেক বড় জালিয়াতি করেছে।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল কোনো প্রকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। ’ অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পেশায় ড্রাইভার হলে কারও ছাত্রদল করার সুযোগ নেই।

অন্যান্য সংগঠন, যেমন শ্রমিক দল করতে পারবে। পরিচয় গোপন করে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই। ’ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ফেনী থেকে ঢাকায় ফিরছি। অনেক ক্লান্ত। এ বিষয়ে পরে কথা বলব। ’ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের ফোনে অনেকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন মন্ডলের নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তারও কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুর ৪ দিনের রিমান্ডে

৬০০ টাকায় কেনা সনদে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক দারাজের চালক নয়ন মন্ডল

Update Time : 02:07:15 am, Friday, 2 October 2026

পেশায় দারাজের চালক ৪০ বছর বয়সী নয়ন মন্ডল জীবনে কখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় যাননি। তবে রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট কিনে তিনি এখন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৭৮৯ সদস্যের কমিটিতে ৪৮৫ নম্বর সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি পরিচয় গোপন করে পাওয়া পদের নাম ভাঙিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার নিজ এলাকার বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিসহ অনেকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেছেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছেও পদের নাম ভাঙিয়েছেন তিনি।

তবে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রাপ্ত এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নয়ন মন্ডল ঘোড়াঘাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নদীভাঙনের ফলে ১০-১২ বছর ধরে তার পরিবার ঘোড়াঘাটে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ফুলছড়িতে তার বাড়িঘর, ব্যবসা বা অন্য কোনো কিছু নেই। তবে বাড়িঘর না থাকলেও ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যমতে, তিনি ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার প্রতিবেদককে বলেন, ‘নয়ন মন্ডলকে আমি জীবনে কোনো দিন সামনাসামনি দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তবে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সে দুদিন আমাকে ফোন করেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এজিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নয়, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের এজিএস।

তবে পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। ‘ব্যবসার খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই উপজেলায় তার কোনো ব্যবসা তো দূরের কথা, বাড়িঘরও নেই। তারা ঘোড়াঘাট উপজেলায় বসবাস করে। তখন উপজেলা সার ডিলার কমিটির মিটিং থেকে তার নাম বাদ দিয়ে জেলায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন শুনছি, জেলা থেকে তার নাম মন্ত্রণালয়ে গেছে। বিষয়টি শুনে আমি হতবাক। কোন খুঁটির জোরে এটা সম্ভব?

’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত নয়ন মন্ডল তার বংশের চাচা ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট করার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক রোকন মন্ডলের পক্ষে আবেদন করেছেন এবং পদের প্রভাব খাটাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। যে ছেলে জীবনে কোনো স্কুলে যায়নি, পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার, সে কীভাবে মহানগর ছাত্রদলের এত বড় পদে থাকে? ’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়ন মন্ডল জীবিকার তাগিদে ২০০৮-০৯ সালের দিকে ঢাকায় আসেন।

প্রথমে চাকরি নেন আওয়ামী লীগ নেতা ও নিটল-টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুবুর রহমানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে। সেখানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। পরে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে অনলাইন সুপারশপ দারাজ বাংলাদেশের ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেন। দারাজের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোস্তফা জামান খান জানিয়েছেন, তিনি এখনো সেখানে কর্মরত।

২০২১ সালে জসিম শিকদার রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলে নিজের ড্রাইভার পরিচয় লুকিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের কর্মী পরিচয়ে তার কাছে ভিড়েন নয়ন মন্ডল। ড্রাইভারের চাকরির ফাঁকে ফাঁকে মাঝেমধ্যে জসিম শিকদার রানার ফুট-ফরমায়েশ খাটতে ছুটে যেতেন নয়ন মন্ডল। এর ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নবগঠিত বনানী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে যান তিনি।

কমিটি গঠনের সময় এসএসসির যে সার্টিফিকেট জমা দেন, তা রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে। নয়ন মন্ডলের বনানী থানা ছাত্রদলের সেই কমিটির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, ‘তাকে কমিটিতে রাখার সময় তৎকালীন মহানগর আহ্বায়ক রানা ভাইয়ের কাছে যে এসএসসির সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল, সেটি তখনই জাল বলে প্রমাণ হয়।

তবুও ওপরের নেতাদের চাপে তাকে রাখতে বাধ্য হই। ‘কমিটি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমি তাকে চিনতাম না। কমিটি হওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছরে তাকে মাত্র একটি প্রোগ্রামে উপস্থিত পেয়েছিলাম। তাছাড়া তাকে প্রোগ্রামের জন্য কল দিলেই বলত, ভোলা, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামে আছি, ট্রিপ নিয়ে। আমার জানামতে, নয়ন মন্ডল এখনো দারাজের আন্তজেলা ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত এবং তার বয়স আমার থেকে অন্তত ১২-১৫ বছর বেশি।

’ এ বিষয়ে মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, ‘নয়ন মন্ডল যদি পেশায় ড্রাইভার হয়ে থাকেন এবং ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরে এজিএস হয়ে থাকেন, তাহলে তার যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

’ ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার নিজ এলাকার বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিসহ অনেকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অন্যায়কারীকে ছাড় দিচ্ছেন না। নয়ন মন্ডল যদি মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে অন্যায্য ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা কিংবা কাউকে হুমকি দিয়ে থাকেন, তাহলে কেউ আমাদের জানালে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

’ নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এত বড় কমিটিতে সবাইকে চেনা সম্ভব নয়। প্রথমত, নয়ন মন্ডলকে আমি চিনি না। তবে সে যদি সত্যিই ড্রাইভার হয় এবং তথ্য গোপন করে ও ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে পদ নিয়ে থাকে, তাহলে সে অনেক বড় জালিয়াতি করেছে।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল কোনো প্রকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। ’ অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পেশায় ড্রাইভার হলে কারও ছাত্রদল করার সুযোগ নেই।

অন্যান্য সংগঠন, যেমন শ্রমিক দল করতে পারবে। পরিচয় গোপন করে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই। ’ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ফেনী থেকে ঢাকায় ফিরছি। অনেক ক্লান্ত। এ বিষয়ে পরে কথা বলব। ’ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের ফোনে অনেকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন মন্ডলের নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তারও কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।