আজ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৪%

হযরত শাহপরান মাজারের অনিয়ম তদন্তে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে আবেদন

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:08:39 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 15

হযরত শাহপরান মাজারের অনিয়ম তদন্তে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে আবেদন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিলেটের সদর উপজেলার হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) ব্যবস্থাপনা, মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালনের আইনি ভিত্তি, আয়-ব্যয়, দানবাক্স পরিচালনা এবং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিশেষ অডিট চেয়ে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দাখিল করা ওই আবেদনে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত দাবি না করে সরকারি নথি, পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদন, হিসাব-নিকাশ, আদালতের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত বিষয় নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাহপরান এলাকার পক্ষে দাখিল করা আবেদনে দস্তখত করেছেন মো. আলমগীর, আবদুল হক জাবেদ, মো জসিম মিয়া, আলী আহমদ, হেলাল আহমদ এবং তাজুল ইসলাম।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লি, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে দান, মানত, নজরানা ও অন্যান্য অনুদান দেন। তাই এর আয়-ব্যয় ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের বিষয়। আবেদনে বলা হয়েছে, মাজারের ব্যবস্থাপনা ও মোতওয়াল্লী নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছিল।

এর সঙ্গে প্রায় ৭৪ পৃষ্ঠার তদন্ত নথি ছিল বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের স্মারক, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের স্মারক এবং ওয়াকফ পরিদর্শক/হিসাব নিরীক্ষকের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের স্মারকসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে। মোতওয়াল্লীর পূর্ববর্তী পদত্যাগের বিষয়টিও আবেদনে উত্থাপন করা হয়েছে।

রীট পিটিশন নং–৬৪৮৬/২০১৪-এ পদত্যাগপত্র দাখিল হয়েছিল বলে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন। সেটি গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, পরবর্তীতে পুনঃনিয়োগ বা বহাল রাখার কোনো আদেশ হয়েছিল কি না—হাইকোর্টের মূল রেকর্ড ও ওয়াকফ অফিসের নথি যাচাই করে তা নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এস্টেটের আয়-ব্যয়ের বিশেষ অডিট, দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার সময় সরকারি প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল সদস্যদের উপস্থিতি এবং ব্যাংকে অর্থ জমার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওয়াকফ এস্টেটের জমি, দোকান, ভাড়া, ইজারা ও অন্যান্য সম্পত্তি সরেজমিনে যাচাই করে হালনাগাদ সম্পত্তি রেজিস্টার তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এবং ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এস্টেটের অর্থ ও সম্পত্তির নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদারকির অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনকারী মো. আলমগীর বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথ সরকারি তদন্ত ও নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই আমরা আবেদন করেছি। ” আবদুল হক জাবেদ বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রেকর্ড, হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ওয়াকফ প্রশাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

” আবেদনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তদন্ত ও শুনানি ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার দাবি তাদের নয়। বরং তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আইনভঙ্গ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বিএসইসির প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা পর্যায়ক্রমে ও বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবানের আহ্বান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত খসড়া বিধিমালা পর্যায়ক্রমে এবং বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন বক্তারা। ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন জোরদারকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তারা। রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার হোসেন সাদাত এফসিএস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা ২০২৬-এর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদ এবং বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে নিয়ে এসেছে ‘স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশিস বড়ুয়া পুঁজিবাজারে আস্থা অর্জনে স্বতন্ত্র পরিচালক, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, অংশীজনদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্য সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এরপর স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন আঞ্চলিক সুশাসন ব্যবস্থার সাথে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন।

তিনি বিধিমালাটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন, ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি এবং আইএফআরএস -এস১ ও এস২-এর আলোকে টেকসই-বিষয়ক তথ্য প্রকাশের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন।

তিনি বলেন, আমি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন, আরপিটির স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন কাঠামো, ইএসজি রিপোর্টিংয়ের সাথে আইএফআরএস এস১/এস২-এর সামঞ্জস্য বিধান এবং একটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক কমপ্লায়েন্স বা বিধি-পালনের পরিবেশ তৈরির সুপারিশ করছি।

বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন লোপা রহমান (করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন (অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সৈয়দ ড. এ. মামুন (অধ্যাপক—ফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও কাউন্সিল সদস্য, আইসিএমএবি), এম. নুরুল আলম এফসিএস (সভাপতি, আইআইএবি), আফসিন বাতেন এফসিএ (অতিরিক্ত পরিচালক, এনফোর্সমেন্ট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন ডিভিশন, মো. মুনির হোসেন (সভাপতি, সিএমজেএফ); আহসান হাবিব (সাধারণ সম্পাদক, সিএমজেএফ) এবং মো. শফিকুল ভূঁইয়া (প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), ডিএসই)।

আলোচনায় তিনটি বাস্তবসম্মত বিষয় উঠে আসে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট। নিয়ে লোপা রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশার ভিত্তিতে বোর্ড ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন জোর দিয়ে বলেন যে, বোর্ডগুলোকে তাদের তদারকির অগ্রাধিকারের সাথে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, সৈয়দ এ. মামুন এমন একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা স্বচ্ছ সুশাসনের মানদণ্ড বজায় রাখার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকেও বিবেচনায় নেয়। এম. নুরুল আলম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে লেনদেন ও পরিপালন নিয়ে আফসিন বাতেন কার্যকর তদারকি ও পরিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন-ভিত্তিক আরও স্পষ্ট পর্যালোচনার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা এমন কার্যকর সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন, যা বোর্ড ও অডিট কমিটিকে এ ধরনের লেনদেন শনাক্ত ও পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে।

বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও উদীয়মান ঝুঁকি নিয়ে মো. মুনির হোসেন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। আহসান হাবিব পরিপালনজনিত ঘাটতি শনাক্তকরণ, সাইবার-ঝুঁকি তদারকি জোরদার এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন; এক্ষেত্রে অডিটর ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবায়নের সময়সীমা, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার এবং পরিপালনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বিনিয়োগকে সহায়তা করে এমন একটি সুশাসন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার সময় কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করবে।

তিনি স্বচ্ছতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সীমিত সম্পদ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা করা অংশীজনদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনাটি মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’-এর পর্যালোচনা নিয়ে পরিচালিত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা কেবল বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন পালনের গণ্ডি পেরিয়ে কীভাবে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পর্ষদ-স্তরের তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হযরত শাহপরান মাজারের অনিয়ম তদন্তে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে আবেদন

Update Time : 07:08:39 pm, Wednesday, 30 September 2026

সিলেটের সদর উপজেলার হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) ব্যবস্থাপনা, মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালনের আইনি ভিত্তি, আয়-ব্যয়, দানবাক্স পরিচালনা এবং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিশেষ অডিট চেয়ে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দাখিল করা ওই আবেদনে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত দাবি না করে সরকারি নথি, পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদন, হিসাব-নিকাশ, আদালতের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত বিষয় নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাহপরান এলাকার পক্ষে দাখিল করা আবেদনে দস্তখত করেছেন মো. আলমগীর, আবদুল হক জাবেদ, মো জসিম মিয়া, আলী আহমদ, হেলাল আহমদ এবং তাজুল ইসলাম।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লি, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে দান, মানত, নজরানা ও অন্যান্য অনুদান দেন। তাই এর আয়-ব্যয় ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের বিষয়। আবেদনে বলা হয়েছে, মাজারের ব্যবস্থাপনা ও মোতওয়াল্লী নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছিল।

এর সঙ্গে প্রায় ৭৪ পৃষ্ঠার তদন্ত নথি ছিল বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের স্মারক, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের স্মারক এবং ওয়াকফ পরিদর্শক/হিসাব নিরীক্ষকের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের স্মারকসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে। মোতওয়াল্লীর পূর্ববর্তী পদত্যাগের বিষয়টিও আবেদনে উত্থাপন করা হয়েছে।

রীট পিটিশন নং–৬৪৮৬/২০১৪-এ পদত্যাগপত্র দাখিল হয়েছিল বলে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন। সেটি গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, পরবর্তীতে পুনঃনিয়োগ বা বহাল রাখার কোনো আদেশ হয়েছিল কি না—হাইকোর্টের মূল রেকর্ড ও ওয়াকফ অফিসের নথি যাচাই করে তা নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এস্টেটের আয়-ব্যয়ের বিশেষ অডিট, দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার সময় সরকারি প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল সদস্যদের উপস্থিতি এবং ব্যাংকে অর্থ জমার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওয়াকফ এস্টেটের জমি, দোকান, ভাড়া, ইজারা ও অন্যান্য সম্পত্তি সরেজমিনে যাচাই করে হালনাগাদ সম্পত্তি রেজিস্টার তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এবং ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এস্টেটের অর্থ ও সম্পত্তির নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদারকির অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনকারী মো. আলমগীর বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথ সরকারি তদন্ত ও নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই আমরা আবেদন করেছি। ” আবদুল হক জাবেদ বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রেকর্ড, হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ওয়াকফ প্রশাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি।

” আবেদনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তদন্ত ও শুনানি ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার দাবি তাদের নয়। বরং তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আইনভঙ্গ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বিএসইসির প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা পর্যায়ক্রমে ও বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবানের আহ্বান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত খসড়া বিধিমালা পর্যায়ক্রমে এবং বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন বক্তারা। ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন জোরদারকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তারা। রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার হোসেন সাদাত এফসিএস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা ২০২৬-এর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদ এবং বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে নিয়ে এসেছে ‘স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশিস বড়ুয়া পুঁজিবাজারে আস্থা অর্জনে স্বতন্ত্র পরিচালক, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, অংশীজনদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্য সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এরপর স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন আঞ্চলিক সুশাসন ব্যবস্থার সাথে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন।

তিনি বিধিমালাটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন, ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি এবং আইএফআরএস -এস১ ও এস২-এর আলোকে টেকসই-বিষয়ক তথ্য প্রকাশের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন।

তিনি বলেন, আমি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন, আরপিটির স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন কাঠামো, ইএসজি রিপোর্টিংয়ের সাথে আইএফআরএস এস১/এস২-এর সামঞ্জস্য বিধান এবং একটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক কমপ্লায়েন্স বা বিধি-পালনের পরিবেশ তৈরির সুপারিশ করছি।

বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন লোপা রহমান (করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন (অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সৈয়দ ড. এ. মামুন (অধ্যাপক—ফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও কাউন্সিল সদস্য, আইসিএমএবি), এম. নুরুল আলম এফসিএস (সভাপতি, আইআইএবি), আফসিন বাতেন এফসিএ (অতিরিক্ত পরিচালক, এনফোর্সমেন্ট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন ডিভিশন, মো. মুনির হোসেন (সভাপতি, সিএমজেএফ); আহসান হাবিব (সাধারণ সম্পাদক, সিএমজেএফ) এবং মো. শফিকুল ভূঁইয়া (প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), ডিএসই)।

আলোচনায় তিনটি বাস্তবসম্মত বিষয় উঠে আসে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট। নিয়ে লোপা রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশার ভিত্তিতে বোর্ড ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন জোর দিয়ে বলেন যে, বোর্ডগুলোকে তাদের তদারকির অগ্রাধিকারের সাথে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, সৈয়দ এ. মামুন এমন একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা স্বচ্ছ সুশাসনের মানদণ্ড বজায় রাখার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকেও বিবেচনায় নেয়। এম. নুরুল আলম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে লেনদেন ও পরিপালন নিয়ে আফসিন বাতেন কার্যকর তদারকি ও পরিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন-ভিত্তিক আরও স্পষ্ট পর্যালোচনার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা এমন কার্যকর সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন, যা বোর্ড ও অডিট কমিটিকে এ ধরনের লেনদেন শনাক্ত ও পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে।

বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও উদীয়মান ঝুঁকি নিয়ে মো. মুনির হোসেন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। আহসান হাবিব পরিপালনজনিত ঘাটতি শনাক্তকরণ, সাইবার-ঝুঁকি তদারকি জোরদার এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন; এক্ষেত্রে অডিটর ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবায়নের সময়সীমা, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার এবং পরিপালনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বিনিয়োগকে সহায়তা করে এমন একটি সুশাসন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার সময় কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করবে।

তিনি স্বচ্ছতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সীমিত সম্পদ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা করা অংশীজনদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনাটি মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’-এর পর্যালোচনা নিয়ে পরিচালিত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা কেবল বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন পালনের গণ্ডি পেরিয়ে কীভাবে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পর্ষদ-স্তরের তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন।