রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা এবার ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগে সামিল হয়েছেন। প্রতিদিন প্রেসক্রিপশন লেখা ও রোগীদের সেবায় ব্যস্ত থাকা এসব চিকিৎসক এখন চমেক ক্যাম্পাসের পাহাড়ি ঢালে বৃক্ষরোপণ করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবুজের স্নিগ্ধতা।
ক্যাম্পাসের পরিবেশকে সুস্থ, সবুজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য ‘সবুজ অক্সিজেন ব্যাংক’। একদল চিকিৎসকের ভিন্নধর্মী উদ্যোগে গত দেড় বছরে চমেক ক্যাম্পাসে রোপণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৯টি গাছ। কোনো সরকারি বরাদ্দ কিংবা বড় ধরনের অনুদানের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষক ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে চলছে এ উদ্যোগ।
চমেকের ‘পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণ কমিটি’র উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের এই টিম নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের রোপণ করা ৩ হাজার ৬৭৯টি গাছের মধ্যে রয়েছে ৩৪ প্রজাতির ১ হাজার ৭৫০টি ফলদ, ২২ প্রজাতির ১ হাজার ৪৩৮টি ফুলের, ১১ প্রজাতির ৪৭০টি বনজ এবং ২টি প্রজাতির (তেজপাতা ও দারুচিনি) ২১টি মসলাজাতীয় গাছ।
৬৯ প্রজাতির এই বিশাল বৈচিত্র্যময় গাছ নিয়ে ক্যাম্পাসে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক শীতল সবুজ পরিমণ্ডল। গতকাল এই মহতী উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন চমেকের প্রবীণ চিকিৎসক ও চমেকের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (গতকাল) সকালে তারা পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে সরেজমিনে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে এ উদ্যোগ নিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কার্যক্রম দেখে প্রশংসা করেন প্রাক্তনরা। একই সঙ্গে এ উদ্যোগে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদেরও অংশীদার করার কথা জানান তারা। ভবিষ্যতে কার্যক্রমটি আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী-চিকিৎসকেরা।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মনোয়ার করিম বাবর, অধ্যাপক ডা. রাশেদা সামাদ, অধ্যাপক ডা. বাসনা রানী মুহুরী, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসান মামুন, অধ্যাপক ডা. শাহানারা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. ইফতেখার হোসেন, অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম খন্দকার, অধ্যাপক ডা. ফারহানা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলী হায়দার রুশ্নী, ডা. মেরিনা আনজুমান্দসহ চমেকের বেশ কয়েকজন নবীন-প্রবীণ চিকিৎসক।
এ উদ্যোগের প্রসঙ্গে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণ কমিটি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা চেয়েছি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে শুধু চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবেও গড়ে তুলতে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ৬৭৯টি গাছ লাগানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু গাছ লাগানো নয়, এগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পরিবেশ তৈরি করা।
চমেকের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরাও এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সবাই পাশে থাকলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।



















