লালমনিরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার পাটগ্রাম ও কালিগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
পাটগ্রামে ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫,৩৫৬ ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২,০৪৪ শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করা। প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন বান রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট প্রদান করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জের পন্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, পূর্বে শিশুদের ক্ষুধার্ত থেকে ক্লাস করতে হতো। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হতো বলে তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিতির প্রতি অনীহাবোধ করত। এখন তাজা রুটি, কলা, ডিমসহ দুধ ও বিস্কুটের ব্যবস্থা থাকায় তাদের ক্লাসে উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধার ক্লান্তি না থাকায় এবং পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ক্লাসেও তাদের মনোযোগ বেড়েছে।
এ প্রকল্পের কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ইকো সোশাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল বলেন, প্রতিনিয়ত তদারকি করছি যেন সঠিক মানের খাবার শিশুদের কাছে পৌঁছানো যায়। পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, ‘মিড-ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি।
আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সব ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করতে পারি। ’ পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বলেন, ক্লাসের বিরতিতে একবেলা পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় বর্ষাকাল বা অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও পাটগ্রামে খুদে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।


















