আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

শার্শায় ডেঙ্গুর প্রকোপ: এক সপ্তাহে শিশুসহ আক্রান্ত ২২

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:12:07 pm, Sunday, 27 September 2026
  • 20

শার্শায় ডেঙ্গুর প্রকোপ: এক সপ্তাহে শিশুসহ আক্রান্ত ২২

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুসহ মোট ২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সারা দেশের ডেঙ্গুর প্রকোপ গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিনই চলাচল করে বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসছে।

ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই উপজেলায় মানুষের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করার ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রুপ নিতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি রাখার জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহলের। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিষ্কার পানি জমা হয়, এ রকম পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, চিপসের প্যাকেট বাড়ির আশপাশে না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। দু-তিন দিনের বেশি সময় যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও রোগীর স্বজনেরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে আমাদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে না।

হাসপাতালে ডাক্তার কম, ফ্যান চলে না, লাইট জ্বলে না, গরমে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে ফ্যান আনতে হচ্ছে, চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়। সরকারের কাছে দাবি হাসপাতালগুলোতে যেন একটু নজর দেয়, আমরা যাতে ভালো চিকিৎসা পেতে পারি। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একটি ৩ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যাটি অনেক বেশি। এ ছাড়াও অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকজন বাসায় ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, পাশাপাশি পরিষ্কার পরিছন্নতা থাকা, মশারি ব্যবহার করা ও জ্বর দেখা দিলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের মতো এই উপজেলাতে ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধন স্প্রে পর্যাপ্ত রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন স্প্রে করার কাজ চলমান রেখেছি। পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রমও চলমান। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় বিল্ডিংয়ের মালিকদের সচেতন থাকতে হবে।

মানুষদেরও সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনিক যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ যা যা প্রয়োজন সেটা উপজেলা প্রশাসন করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

শার্শায় ডেঙ্গুর প্রকোপ: এক সপ্তাহে শিশুসহ আক্রান্ত ২২

Update Time : 12:12:07 pm, Sunday, 27 September 2026

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুসহ মোট ২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সারা দেশের ডেঙ্গুর প্রকোপ গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিনই চলাচল করে বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসছে।

ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই উপজেলায় মানুষের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করার ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রুপ নিতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি রাখার জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহলের। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিষ্কার পানি জমা হয়, এ রকম পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, চিপসের প্যাকেট বাড়ির আশপাশে না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। দু-তিন দিনের বেশি সময় যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও রোগীর স্বজনেরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে আমাদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে না।

হাসপাতালে ডাক্তার কম, ফ্যান চলে না, লাইট জ্বলে না, গরমে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে ফ্যান আনতে হচ্ছে, চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়। সরকারের কাছে দাবি হাসপাতালগুলোতে যেন একটু নজর দেয়, আমরা যাতে ভালো চিকিৎসা পেতে পারি। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একটি ৩ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যাটি অনেক বেশি। এ ছাড়াও অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকজন বাসায় ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, পাশাপাশি পরিষ্কার পরিছন্নতা থাকা, মশারি ব্যবহার করা ও জ্বর দেখা দিলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের মতো এই উপজেলাতে ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধন স্প্রে পর্যাপ্ত রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন স্প্রে করার কাজ চলমান রেখেছি। পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রমও চলমান। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় বিল্ডিংয়ের মালিকদের সচেতন থাকতে হবে।

মানুষদেরও সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনিক যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ যা যা প্রয়োজন সেটা উপজেলা প্রশাসন করবে।