আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৩%

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৩০ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:30:08 am, Sunday, 27 September 2026
  • 22

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৩০ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই বহুমাত্রিক সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে।

নিউইয়র্ক সফরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের পুরো সময়জুড়ে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ, বিশেষ বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১টি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং একটি ঐতিহাসিক ভাষণসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমীন।

নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৩টা) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিশ্বমঞ্চে তার দেওয়া বক্তব্যের তাৎপর্য এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। মাহ্দী আমীন বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রী চার দিনে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আটটিসহ সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৮০টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে বলেও জানান তিনি। ১১ দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ, ভুটান, হাইতি, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত— এই ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করেন।

তিনি জানান, বিশেষ করে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আরও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বোয়িং গ্লোবাল, গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমীন। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত-ব্যবাসায়ী-বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তার সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার— বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।

’ রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন— বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন। ’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়।

দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই— সাফল্য নিশ্চিত করা। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান। ’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস।

দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।

’ জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

’ তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তার সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি। ’ সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক ভাষণ : মাহ্দী আমীন জানান, প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি স্থানে বক্তব্য দেন।

এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ছিল তার ঐতিহাসিক ভাষণ। এ ছাড়া সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে চারটি, শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক আটটি কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদান, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ অনুষ্ঠান ও উদ্বোধনী অধিবেশন উল্লেখযোগ্য।

জাতিসংঘের সম্মেলনস্থলের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্যসেবা খাতে মিডওয়াইফের সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমানও : সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। মাহ্দী আমীন জানান, তিনি মোট আটটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চারটিতে বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নারী নেত্রীদের প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক অধিবেশন, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসে মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য ছিল।

সফরকালে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক : সফরের শেষ দিনেও ব্যস্ত সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

মাহ্দী আমীন বলেন, আমেরিকান বেসরকারি খাতের আয়োজিত এ আলোচনায় বিশেষ করে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এরপর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা : জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমীন জানান, গুম, খুন, হামলা, মামলা ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে বিগত দিনে কমিশনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায্যতাকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরায় নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানায় মানবাধিকার কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে আমন্ত্রণ : সফরের শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী দেশ—০ কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। মাহ্দী আমীন জানান, তিন দেশ থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। তার নির্দেশনায় একটি ছোট প্রতিনিধিদল পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে ক্যালিফোর্নিয়া যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। মাহ্দী আমীন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতা প্রতিষ্ঠার একটি বৈশ্বিক দর্শন তুলে ধরেছেন।

তার ভাষণ ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী : নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় রাত ১১:৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছায়।

সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হকের নেতৃত্বে মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ও মিছিল

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৩০ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 12:30:08 am, Sunday, 27 September 2026

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই বহুমাত্রিক সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে।

নিউইয়র্ক সফরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের পুরো সময়জুড়ে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ, বিশেষ বক্তৃতা এবং আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১টি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং একটি ঐতিহাসিক ভাষণসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমীন।

নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৩টা) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিশ্বমঞ্চে তার দেওয়া বক্তব্যের তাৎপর্য এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। মাহ্দী আমীন বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রী চার দিনে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আটটিসহ সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৮০টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে বলেও জানান তিনি। ১১ দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ, ভুটান, হাইতি, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত— এই ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করেন।

তিনি জানান, বিশেষ করে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আরও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বোয়িং গ্লোবাল, গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমীন। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত-ব্যবাসায়ী-বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তার সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার— বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।

’ রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন— বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন। ’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়।

দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই— সাফল্য নিশ্চিত করা। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান। ’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস।

দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।

’ জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

’ তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তার সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি। ’ সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক ভাষণ : মাহ্দী আমীন জানান, প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি স্থানে বক্তব্য দেন।

এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ছিল তার ঐতিহাসিক ভাষণ। এ ছাড়া সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে চারটি, শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক আটটি কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদান, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ অনুষ্ঠান ও উদ্বোধনী অধিবেশন উল্লেখযোগ্য।

জাতিসংঘের সম্মেলনস্থলের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্যসেবা খাতে মিডওয়াইফের সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমানও : সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। মাহ্দী আমীন জানান, তিনি মোট আটটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চারটিতে বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নারী নেত্রীদের প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক অধিবেশন, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসে মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য ছিল।

সফরকালে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক : সফরের শেষ দিনেও ব্যস্ত সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

মাহ্দী আমীন বলেন, আমেরিকান বেসরকারি খাতের আয়োজিত এ আলোচনায় বিশেষ করে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এরপর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা : জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমীন জানান, গুম, খুন, হামলা, মামলা ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে বিগত দিনে কমিশনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায্যতাকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরায় নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানায় মানবাধিকার কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে আমন্ত্রণ : সফরের শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী দেশ—০ কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। মাহ্দী আমীন জানান, তিন দেশ থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। তার নির্দেশনায় একটি ছোট প্রতিনিধিদল পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে ক্যালিফোর্নিয়া যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। মাহ্দী আমীন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতা প্রতিষ্ঠার একটি বৈশ্বিক দর্শন তুলে ধরেছেন।

তার ভাষণ ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী : নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় রাত ১১:৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছায়।

সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।