আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৩%

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে সরকার

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:59:03 am, Monday, 28 September 2026
  • 11

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে সরকার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন খাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং নীতিগত নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বর্তমান বিএনপি সরকারও বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সব সরকারি স্থাপনার ছাদে সোলার প্যানের স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

কিন্তু শুধু ছাদভিত্তিক উৎস থেকে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় দাবি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ জমি, গ্রিড, অর্থায়ন ও নীতির ধারাবাহিকতা। রয়েছে বিনিয়োগকারীদের উদাসীনতাও। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত তাদের।

গতকাল রোববার এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আহ্বান জানান, সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করার। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ সম্ভব বলেও মত তার। শুধু স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নন, সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায়ও ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সহায়তা ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে।

একই সময়ে সরকারি হিসাবে দেশের মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১,৭৮১ মেগাওয়াট। তবে লক্ষ্য যতটা উচ্চাভিলাষী, বাস্তবায়নের পথ ততটাই কঠিন। জমির সংকট, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, প্রকল্পে অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতির পরিবর্তন— সব মিলিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সম্প্রসারণে একাধিক বাধা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা সৌরবিদ্যুতেই। দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। বিভিন্ন সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা সীমিত। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমতল ভূখণ্ডের কারণে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুযোগও কম।

তাই সরকার রুফটপ সোলারেই জোর দিচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচিতে ২০২৬ সালে বিশেষ প্রণোদনা, নেট মিটারিং এবং জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির বাস্তবায়ন গাইডলাইনসহ একাধিক নীতিগত ব্যবস্থা রয়েছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় ১,৯৪১টি স্থাপনায় মোট ৮৪.৫৯২ মেগাওয়াট-পিক সৌর সক্ষমতা রয়েছে।

অর্থাৎ রুফটপ সোলারের প্রসার ঘটলেও জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার তুলনায় এর পরিমাণ এখনো ছোট। তবে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবো। তবে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অন্যতম বড় বাধা জমি। বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিপুল পরিমাণ জমি প্রয়োজন। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে শিল্প, কৃষি, আবাসন, যোগাযোগ ও পরিবেশগত প্রয়োজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বড় জমি পাওয়া কঠিন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষির সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সহাবস্থান বা অ্যাগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথাও রয়েছে। সরকারি পতিত জমি, খাসজমি, চর, নদীতীর, সমুদ্রসৈকত ও অন্যান্য উপযোগী জমি ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও নীতিতে রয়েছে। তবে নীতি থাকলেই জমি পাওয়া যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সৌরবিদ্যুতের অন্যতম সমস্যা জমি অধিগ্রহণের জটিলতা। প্রয়োজনীয় জমির ম্যাপিংয়ের ঘাটতিও বড় সৌর প্রকল্প সম্প্রসারণে সমস্যা তৈরি করছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘জমি পাওয়া যাবে কি না’ নয়, কোন জমিতে সৌরবিদ্যুৎ করলে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কী প্রভাব পড়বে— সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এখানে গ্রিডও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ দিনের আলোতে উৎপাদিত হয়। মেঘলা আবহাওয়া, বৃষ্টি কিংবা রাতে উৎপাদন কমে যায়। বায়ু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও উৎপাদন নির্ভর করে বাতাসের গতির ওপর। ফলে প্রচলিত গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সব সময় একই মাত্রায় উৎপাদন করা যায় না।

এ কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক গ্রিড, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং উৎপাদন-চাহিদার ভারসাম্য ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো মোকাবিলা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি। জানা যায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে সঞ্চালন লাইন প্রায় ২৮ হাজার ৩২০ সার্কিট কিলোমিটার এবং বিতরণ লাইন প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকে বৃহৎ পরিসরে গ্রিডে যুক্ত করার জন্য শুধু লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ালেই হবে না। কোথায় সৌর বা বায়ু প্রকল্প হবে এবং সেই বিদ্যুৎ কোন গ্রিড সাবস্টেশনে যাবে— এ সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। তবে ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়কালে বছরে প্রায় ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

আর ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে বছরে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ১.৩৭ থেকে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার। এত বড় অর্থ শুধু সরকারি অর্থায়ন থেকে জোগানো কঠিন। ফলে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সামনে রয়েছে কয়েকটি ঝুঁকি উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এ দেশে যেকোনো ধরনের বিনিয়োগকারীদেরই বড় চ্যালেঞ্জ নীতির হঠাৎ পরিবর্তন।

আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে রয়েছে প্রকল্পের বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ঋণের সুদ ও অর্থায়নের খরচ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, জমি অধিগ্রহণের মতো চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ সমাধান করা গেলে লক্ষ্যপূরণ অসম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)। সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমাবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং দেশে ১০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বিডব্লিউজিইডির এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল আমদানি সাশ্রয় সম্ভব। একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২০ বছরের আয়ুষ্কালে এর মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংগঠনটির প্রতিনিধি ও ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি সহায়তা ব্যয় নয়, বরং এটি এমন একটি বিনিয়োগ, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমায় এবং দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা সরাসরি ভর্তুকি দিতে হবে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরে প্রায় ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ও অন্যান্য বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগেও সমান কর-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৪ হাজার ১৬৬ একর অব্যবহৃত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু বড় বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সরকারকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে যুক্ত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হকের নেতৃত্বে মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ও মিছিল

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে সরকার

Update Time : 01:59:03 am, Monday, 28 September 2026

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন খাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং নীতিগত নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বর্তমান বিএনপি সরকারও বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সব সরকারি স্থাপনার ছাদে সোলার প্যানের স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

কিন্তু শুধু ছাদভিত্তিক উৎস থেকে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় দাবি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ জমি, গ্রিড, অর্থায়ন ও নীতির ধারাবাহিকতা। রয়েছে বিনিয়োগকারীদের উদাসীনতাও। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত তাদের।

গতকাল রোববার এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আহ্বান জানান, সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করার। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ সম্ভব বলেও মত তার। শুধু স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নন, সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায়ও ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সহায়তা ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে।

একই সময়ে সরকারি হিসাবে দেশের মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১,৭৮১ মেগাওয়াট। তবে লক্ষ্য যতটা উচ্চাভিলাষী, বাস্তবায়নের পথ ততটাই কঠিন। জমির সংকট, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, প্রকল্পে অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতির পরিবর্তন— সব মিলিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সম্প্রসারণে একাধিক বাধা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা সৌরবিদ্যুতেই। দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। বিভিন্ন সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা সীমিত। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমতল ভূখণ্ডের কারণে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুযোগও কম।

তাই সরকার রুফটপ সোলারেই জোর দিচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচিতে ২০২৬ সালে বিশেষ প্রণোদনা, নেট মিটারিং এবং জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির বাস্তবায়ন গাইডলাইনসহ একাধিক নীতিগত ব্যবস্থা রয়েছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় ১,৯৪১টি স্থাপনায় মোট ৮৪.৫৯২ মেগাওয়াট-পিক সৌর সক্ষমতা রয়েছে।

অর্থাৎ রুফটপ সোলারের প্রসার ঘটলেও জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার তুলনায় এর পরিমাণ এখনো ছোট। তবে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবো। তবে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অন্যতম বড় বাধা জমি। বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিপুল পরিমাণ জমি প্রয়োজন। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে শিল্প, কৃষি, আবাসন, যোগাযোগ ও পরিবেশগত প্রয়োজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বড় জমি পাওয়া কঠিন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষির সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সহাবস্থান বা অ্যাগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথাও রয়েছে। সরকারি পতিত জমি, খাসজমি, চর, নদীতীর, সমুদ্রসৈকত ও অন্যান্য উপযোগী জমি ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও নীতিতে রয়েছে। তবে নীতি থাকলেই জমি পাওয়া যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সৌরবিদ্যুতের অন্যতম সমস্যা জমি অধিগ্রহণের জটিলতা। প্রয়োজনীয় জমির ম্যাপিংয়ের ঘাটতিও বড় সৌর প্রকল্প সম্প্রসারণে সমস্যা তৈরি করছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘জমি পাওয়া যাবে কি না’ নয়, কোন জমিতে সৌরবিদ্যুৎ করলে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কী প্রভাব পড়বে— সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এখানে গ্রিডও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ দিনের আলোতে উৎপাদিত হয়। মেঘলা আবহাওয়া, বৃষ্টি কিংবা রাতে উৎপাদন কমে যায়। বায়ু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও উৎপাদন নির্ভর করে বাতাসের গতির ওপর। ফলে প্রচলিত গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সব সময় একই মাত্রায় উৎপাদন করা যায় না।

এ কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক গ্রিড, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং উৎপাদন-চাহিদার ভারসাম্য ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো মোকাবিলা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি। জানা যায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে সঞ্চালন লাইন প্রায় ২৮ হাজার ৩২০ সার্কিট কিলোমিটার এবং বিতরণ লাইন প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকে বৃহৎ পরিসরে গ্রিডে যুক্ত করার জন্য শুধু লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ালেই হবে না। কোথায় সৌর বা বায়ু প্রকল্প হবে এবং সেই বিদ্যুৎ কোন গ্রিড সাবস্টেশনে যাবে— এ সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। তবে ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়কালে বছরে প্রায় ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

আর ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে বছরে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ১.৩৭ থেকে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার। এত বড় অর্থ শুধু সরকারি অর্থায়ন থেকে জোগানো কঠিন। ফলে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সামনে রয়েছে কয়েকটি ঝুঁকি উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এ দেশে যেকোনো ধরনের বিনিয়োগকারীদেরই বড় চ্যালেঞ্জ নীতির হঠাৎ পরিবর্তন।

আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে রয়েছে প্রকল্পের বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ঋণের সুদ ও অর্থায়নের খরচ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, জমি অধিগ্রহণের মতো চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ সমাধান করা গেলে লক্ষ্যপূরণ অসম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)। সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমাবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং দেশে ১০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বিডব্লিউজিইডির এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল আমদানি সাশ্রয় সম্ভব। একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২০ বছরের আয়ুষ্কালে এর মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংগঠনটির প্রতিনিধি ও ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি সহায়তা ব্যয় নয়, বরং এটি এমন একটি বিনিয়োগ, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমায় এবং দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা সরাসরি ভর্তুকি দিতে হবে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরে প্রায় ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ও অন্যান্য বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগেও সমান কর-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৪ হাজার ১৬৬ একর অব্যবহৃত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু বড় বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সরকারকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে যুক্ত করতে হবে।