আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৩%

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় অক্টোবরে

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:04:33 am, Sunday, 27 September 2026
  • 20

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় অক্টোবরে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান ঐতিহাসিক মামলার রায় আগামী অক্টোবর মাসে ঘোষণা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) চলমান এই মামলার রায়সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে মামলা করে আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়া। মূলত ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সমর্থনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া মামলা করে। মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে গাম্বিয়া। মামলাতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা।

সেই কারণে মূল বিচার শুরুর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিজের কাছে আবেদন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের হেগে অভিযোগের ওপর শুনানি চলে। শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে অংশ নেন দেশটির নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। শুনানিতে মিয়ানমারে কোনো গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। বৈঠকে দাউদা এ জালো জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলার রায় ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার দায় নির্ধারণে আইসিজের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ তৈরিতেও এ রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক জেনোসাইড কনভেনশন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন, নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণ করা হয়। মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে গত মাসে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগেতে নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।

সেখানে তিনি মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলার শুনানির অধিকার নেই আন্তর্জাতিক আদালতের। অপরদিকে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকারের জবাবে গাম্বিয়ার এক আইনজীবী আদালতের কাছে রোহিঙ্গা হত্যা ও নিপীড়নের বেশ কিছু ছবি প্রদর্শন করেন। এগুলোকে গণহত্যার আলামত হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।

সে সময় গাম্বিয়ার এক আইনজীবী বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগে নিজ দেশের সৈন্যদের জবাবদিহি করার জন্য মিয়ানমারকে বিশ্বাস করা যায় না এবং সহিংসতা বন্ধের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। যদিও বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হকের নেতৃত্বে মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ও মিছিল

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় অক্টোবরে

Update Time : 12:04:33 am, Sunday, 27 September 2026

মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান ঐতিহাসিক মামলার রায় আগামী অক্টোবর মাসে ঘোষণা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) চলমান এই মামলার রায়সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে মামলা করে আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়া। মূলত ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সমর্থনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া মামলা করে। মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে গাম্বিয়া। মামলাতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা।

সেই কারণে মূল বিচার শুরুর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিজের কাছে আবেদন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের হেগে অভিযোগের ওপর শুনানি চলে। শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে অংশ নেন দেশটির নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। শুনানিতে মিয়ানমারে কোনো গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। বৈঠকে দাউদা এ জালো জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলার রায় ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার দায় নির্ধারণে আইসিজের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ তৈরিতেও এ রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক জেনোসাইড কনভেনশন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন, নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণ করা হয়। মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে গত মাসে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগেতে নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।

সেখানে তিনি মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলার শুনানির অধিকার নেই আন্তর্জাতিক আদালতের। অপরদিকে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকারের জবাবে গাম্বিয়ার এক আইনজীবী আদালতের কাছে রোহিঙ্গা হত্যা ও নিপীড়নের বেশ কিছু ছবি প্রদর্শন করেন। এগুলোকে গণহত্যার আলামত হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।

সে সময় গাম্বিয়ার এক আইনজীবী বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগে নিজ দেশের সৈন্যদের জবাবদিহি করার জন্য মিয়ানমারকে বিশ্বাস করা যায় না এবং সহিংসতা বন্ধের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। যদিও বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষমতা আদালতের নেই।