সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে ১৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রল টিম। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সুন্দরবনের নটাবেঁকি অভয়ারণ্য কেন্দ্র সংলগ্ন রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে বন আইনে মামলা দায়ের করে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটককৃত জেলেরা হলেন—সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পাশ্বমারি গ্রামের মো. রফিকুল মোল্লা, মো. আল আমিন মোল্লা, মো. মনিরুল ইসলাম (পিতা- মৃত কাশেম গাজী), মো. কবিজুল (পিতা- আবিয়ার গাজী) এবং জুরাত জামাল গাজী (পিতা- মৃত গোলাপ গাজী)।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সাতক্ষীরা রেঞ্জে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে বন বিভাগের বিশেষায়িত ‘স্মার্ট পেট্রল টিম’। বৃহস্পতিবার রাতে নটাবেঁকি অভয়ারণ্য সংলগ্ন রায়মঙ্গল নদীতে টহল দেওয়ার সময় বনকর্মীরা একটি ডিঙ্গি নৌকার সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। নদীটি সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের আওতাভুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ওই ৫ জেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদের নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট ও চরপাটা জাল দিয়ে ধরা ভেটকি, পারশে, ভাঙনসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫০ কেজি তাজা ‘সাদা মাছ’ জব্দ করা হয়। সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন জানান, ‘সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় সকল প্রকার মাছ ও বনজ সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুমতি ছাড়া অসাধু পন্থায় মৎস্য শিকার বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আটককৃত পাঁচ জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা (পিওআর) দায়ের করা হয়েছে এবং শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত মাছ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিলাম বা বিনষ্টের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




















