বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, যুদ্ধের জন্য বিশ্ব যতটা সুসংগঠিত, খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ততটাই অকার্যকর। জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে কীভাবে একসঙ্গে সংকটে ফেলছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
৩৬ বছর বয়সী শাহ চলতি বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান। ভাষণে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানান। শাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দায় যেসব দেশের তুলনামূলকভাবে কম, তারাই এর ক্ষতির বড় অংশ বহন করছে। নিজের দেশের উদাহরণ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের।
তাদের ভাষায়, তারা যে জলবায়ুকে উষ্ণ করেনি, তার পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে। একইভাবে, যেসব যুদ্ধ তারা শুরু করেনি, সেসব সংঘাতের প্রভাবও তাদের ওপর পড়ছে। তার মতে, এসব ঘটনা বৈশ্বিক সহযোগিতার বর্তমান ব্যবস্থার গভীরে থাকা নানা দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এই বক্তব্যে শাহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আনেন।
ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। ‘হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা’ গঠনের প্রস্তাব জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শাহ ‘হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
তার মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ক্রমেই অস্থিতিশীল করে তুলছে। এ উদ্যোগে নেপাল, ভারত ও চীনকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের ওপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। শুধু নেপাল নয়, এ পর্বতমালা আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে।
তাই হিমালয়কে কোনো প্রান্তিক ভূখণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি বৈশ্বিক জীবনধারণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নেপাল, ভারত ও চীন স্যাটেলাইট তথ্য, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা পরস্পরের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবে বলে জানান শাহ। জাতিসংঘে বক্তব্যের সময় তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো রাষ্ট্রীয় সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকে না।
হিমবাহ গলে যাওয়া কিংবা বন্যার পানির প্রবাহ কোনো ভিসা বা পাসপোর্টের প্রয়োজন করে না। তাই এই সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বন্যার পর নেপালকে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান শাহ। তিনি বিশেষভাবে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের দ্রুত সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, মানবিক সহায়তা সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।


















