নওগাঁর বদলগাছীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব উদযাপিত হয়েছে। নিজেদের সংস্কৃতি, লোকাচার ও শিকড়ের টানে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বদলগাছী মিনি স্টেডিয়ামে এ উৎসবের আয়োজন করে আদিবাসী ছাত্র সংগঠন।
উৎসবকে ঘিরে বিকেল থেকেই মিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গান, নাচ ও নানা লোকজ আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। যেন কর্মব্যস্ত গ্রামীণ জীবনের মাঝে এক টুকরো উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে। কারাম উৎসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। কৃষি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা এ উৎসবে পরিবারের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের প্রত্যাশায় প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা। এ সময় তিনি বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করা প্রয়োজন। তাদের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষায় দুই উপজেলায় দুটি ভাষা সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
এ সময় আয়োজক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে ফুটে ওঠে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার চিত্র। ঢোল-মাদলের তালে তালে দলবদ্ধ নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী গান ও নানা লোকজ পরিবেশনা উৎসবে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এতে অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, কারাম উৎসব শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। দিনভর নানা আয়োজন শেষে সুখ-শান্তি, পারিবারিক মঙ্গল, সমৃদ্ধি এবং কৃষকের ভালো ফসলের প্রত্যাশায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব।
কারাম উৎসব যেন মনে করিয়ে দেয়—মাটি, ফসল, প্রকৃতি আর মানুষের জীবন; এই চারটি মিলেই বেঁচে আছে গ্রামীণ বাংলার বহু পুরোনো সংস্কৃতির শিকড়।



















