আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৭%

বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউলের নথিতে অসঙ্গতি ও গোয়েন্দা যোগের অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:01:00 pm, Friday, 25 September 2026
  • 13

বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউলের নথিতে অসঙ্গতি ও গোয়েন্দা যোগের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম রবিকে ঘিরে পরিচয়সংক্রান্ত নথিতে একাধিক অসঙ্গতি এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য দাবি করেছেন।

জুলকারনাইনের দাবি, রবিউল ইসলামের কাছে থাকা ভারতীয় আধার ও প্যান কার্ডে জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮২ উল্লেখ রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা একটি পাসপোর্টে জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ৯ এপ্রিল ১৯৮১। এর বাইরে, ২১ জুন ২০২৬ বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রবিউল যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, সেখানে জন্মতারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২ মে ১৯৮৫। অর্থাৎ, আধার ও প্যান কার্ডে এক জন্মতারিখের পাশাপাশি দুটি পাসপোর্টে আরও দুটি ভিন্ন জন্মতারিখ থাকার দাবি করা হচ্ছে।

এ ধরনের নথিগত অসঙ্গতির কারণ কী এবং পাসপোর্টগুলো কীভাবে ইস্যু হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জুলকারনাইন তার পোস্টে দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিক ভারতীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে একই সময়ে ভিন্ন জন্মতারিখযুক্ত দুটি পৃথক পাসপোর্ট একজন ভারতীয় নাগরিকের কাছে থাকা স্বাভাবিক বা অনুমোদিত বিষয় নয়।

তবে বিশেষ কোনো সরকারি বা নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এ দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ অবশ্য পাওয়া যায়নি। কেজরিওয়ালকে নজরদারির অভিযোগ রবিউল ইসলাম রবি ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-এর হয়ে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেছেন জুলকারনাইন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিকট অতীতে রবিউল দীর্ঘ সময় দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ওপর নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। আরও দাবি করা হয়েছে, কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ পরিসরে অবস্থান করে তার ‘ইনার সার্কেল’-এর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন রবিউল। তবে এই দাবির পক্ষে রবিউলের আইবি-সম্পৃক্ততার কোনো সরকারি নথি বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টিকে ঘিরে অতীতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ‘স্নুপিং’ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের খবর অবশ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০১৫ সালে দিল্লি সরকারের গঠিত ‘ফিডব্যাক ইউনিট’ নিয়েও রাজনৈতিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে; পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় সিবিআই তদন্ত ও মামলা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই ইউনিটে সাবেক আইবি কর্মকর্তাদের কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পুরোনো ঘটনা থেকে বাংলাদেশে আটক রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা? জুলকারনাইনের দাবি, রবিউল ইসলামকে বিভিন্ন উপায়ে মুক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি এবং স্বাধীনভাবেও তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ফলে রবিউল ইসলামের প্রকৃত পরিচয়, তার কাছে থাকা নথিগুলোর বৈধতা, একাধিক পাসপোর্ট থাকার কারণ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ: সমঝোতামূলক বিশ্ব গড়ার আহ্বান ও রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা

বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউলের নথিতে অসঙ্গতি ও গোয়েন্দা যোগের অভিযোগ

Update Time : 01:01:00 pm, Friday, 25 September 2026

বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম রবিকে ঘিরে পরিচয়সংক্রান্ত নথিতে একাধিক অসঙ্গতি এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য দাবি করেছেন।

জুলকারনাইনের দাবি, রবিউল ইসলামের কাছে থাকা ভারতীয় আধার ও প্যান কার্ডে জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮২ উল্লেখ রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা একটি পাসপোর্টে জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ৯ এপ্রিল ১৯৮১। এর বাইরে, ২১ জুন ২০২৬ বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রবিউল যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, সেখানে জন্মতারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২ মে ১৯৮৫। অর্থাৎ, আধার ও প্যান কার্ডে এক জন্মতারিখের পাশাপাশি দুটি পাসপোর্টে আরও দুটি ভিন্ন জন্মতারিখ থাকার দাবি করা হচ্ছে।

এ ধরনের নথিগত অসঙ্গতির কারণ কী এবং পাসপোর্টগুলো কীভাবে ইস্যু হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জুলকারনাইন তার পোস্টে দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিক ভারতীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে একই সময়ে ভিন্ন জন্মতারিখযুক্ত দুটি পৃথক পাসপোর্ট একজন ভারতীয় নাগরিকের কাছে থাকা স্বাভাবিক বা অনুমোদিত বিষয় নয়।

তবে বিশেষ কোনো সরকারি বা নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এ দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ অবশ্য পাওয়া যায়নি। কেজরিওয়ালকে নজরদারির অভিযোগ রবিউল ইসলাম রবি ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-এর হয়ে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেছেন জুলকারনাইন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিকট অতীতে রবিউল দীর্ঘ সময় দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ওপর নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। আরও দাবি করা হয়েছে, কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ পরিসরে অবস্থান করে তার ‘ইনার সার্কেল’-এর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন রবিউল। তবে এই দাবির পক্ষে রবিউলের আইবি-সম্পৃক্ততার কোনো সরকারি নথি বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টিকে ঘিরে অতীতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ‘স্নুপিং’ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের খবর অবশ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০১৫ সালে দিল্লি সরকারের গঠিত ‘ফিডব্যাক ইউনিট’ নিয়েও রাজনৈতিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে; পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় সিবিআই তদন্ত ও মামলা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই ইউনিটে সাবেক আইবি কর্মকর্তাদের কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পুরোনো ঘটনা থেকে বাংলাদেশে আটক রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা? জুলকারনাইনের দাবি, রবিউল ইসলামকে বিভিন্ন উপায়ে মুক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি এবং স্বাধীনভাবেও তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ফলে রবিউল ইসলামের প্রকৃত পরিচয়, তার কাছে থাকা নথিগুলোর বৈধতা, একাধিক পাসপোর্ট থাকার কারণ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।