জামায়াতে ইসলামীর চলমান ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি দেশটিতে ফিরে পেট্রোলিয়াম লেভি ইস্যুতে দলটির সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জেআইর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে ফোনালাপে এই অনুরোধ জানান শাহবাজ শরীফ। জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেই পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংঘাত নয়, দাবি আদায়ে আন্দোলন ফোনালাপে হাফিজ নাঈম বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যেতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায় না। তবে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নেমেছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সরকারের সম্মান করা উচিত। শুরার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শাহবাজ শরীফের অনুরোধের বিষয়ে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাফিজ নাঈম।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুরোধে লং মার্চ স্থগিত হলেও জনগণের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে জামায়াতে ইসলামী সরে আসবে না। মুলতানে পৌঁছেছে ট্রেন মার্চ পেট্রোলিয়াম লেভির প্রতিবাদে করাচি থেকে শুরু হওয়া জেআইর ট্রেন মার্চ সোমবার রাতে মুলতানে পৌঁছেছে। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাফিজ নাঈম। তিনি বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেন পৌঁছালেও সমর্থকদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনায় কোনো ভাটা পড়েনি।
বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও দক্ষিণ পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরেও দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা ট্রেন মার্চকে স্বাগত জানিয়েছেন। মুলতান থেকে লং মার্চ দক্ষিণ ও মধ্য পাঞ্জাব হয়ে লাহোর অতিক্রম করে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতে ইসলামী পেট্রোলিয়াম লেভিকে ‘এক্সটরশন ট্যাক্স’ আখ্যা দিয়ে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
দলটির দাবি, জ্বালানি, আটা, গম ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সঙ্গে সরকারের চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবিও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু। দলটি জানায়, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।






















