আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:17:52 pm, Tuesday, 22 September 2026
  • 11

১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার ঠেকাতে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।

নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্যের সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আইনি নোটিশে মূল্যস্ফীতিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

নোটিশদাতার বক্তব্য, এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে জনস্বার্থে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নোটিশে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চ মূল্যমানের এই নোট দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে কম প্রয়োজনীয় হলেও দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ গোপন রাখার কাজে এর ব্যবহার হতে পারে।

নোটিশদাতার দাবি, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। এতে ছায়া অর্থনীতির বিস্তার ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘ক্লিন নোট পলিসি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

সে সময় নোটটি বৈধ মুদ্রা হিসেবে বহাল ছিল এবং জনগণকে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া অথবা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে আরও বলা হয়, স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশদাতা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। নোটিশে তিনি অর্থনীতি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের কথাও উল্লেখ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে

১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

Update Time : 05:17:52 pm, Tuesday, 22 September 2026

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার ঠেকাতে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।

নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্যের সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আইনি নোটিশে মূল্যস্ফীতিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

নোটিশদাতার বক্তব্য, এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে জনস্বার্থে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নোটিশে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চ মূল্যমানের এই নোট দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে কম প্রয়োজনীয় হলেও দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ গোপন রাখার কাজে এর ব্যবহার হতে পারে।

নোটিশদাতার দাবি, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। এতে ছায়া অর্থনীতির বিস্তার ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘ক্লিন নোট পলিসি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

সে সময় নোটটি বৈধ মুদ্রা হিসেবে বহাল ছিল এবং জনগণকে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া অথবা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে আরও বলা হয়, স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশদাতা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। নোটিশে তিনি অর্থনীতি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের কথাও উল্লেখ করেছেন।