একসময় যে ভবনের দেয়ালগুলো মুখর থাকত নাটক, গান আর গুণীজনদের পদচারণায়, সেই বোরহানউদ্দিন অডিটোরিয়াম আজ চরম অযত্ন আর অবহেলায় নিস্তব্ধ। নির্মাণের পর কোনো সংস্কার না হওয়ায় একসময়ের প্রাণোচ্ছল এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পরিণত হয়েছে ভূতুড়ে ঘরে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে ভোলা জেলা পরিষদের অধীনে প্রায় এক কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের প্রবেশমুখে এ অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। ৬০০ আসন ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামসমৃদ্ধ এ মিলনায়তন ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা ও সেমিনারে মুখর থাকলেও, সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এর জানালা-দরজা ভেঙে গেছে এবং ভেতরের মহামূল্যবান সরঞ্জামগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
চোখের সামনে এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থাপনার করুণ পরিণতিতে হতাশ স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। সাংস্কৃতিক কর্মী রাজীব রতন দে আক্ষেপ করে বলেন, অডিটোরিয়ামটি চালু থাকলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন অনেক বেশি চাঙা থাকত। একইভাবে হতাশা ব্যক্ত করে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বশির আহমেদ জানান, বড় সভা বা সেমিনার করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা আর নেই; অথচ এ অডিটোরিয়ামটি একসময় মানুষের বিনোদন ও সমাবেশের নৈসর্গিক স্পট ছিল।
মূলত অর্থসংকটের কারণেই অডিটোরিয়ামটির এমন বেহালদশা বলে জানান অধ্যক্ষ আনোয়ার উল ইসলাম। তিনি জানান, ভবনটি সংস্কারের জন্য বিশাল অর্থের প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ নির্বাহী প্রকৌশলীর অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মণ আশ্বস্ত করে জানান, অডিটোরিয়াম সংস্কারের জন্য জেলা পর্যায়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু হবে। সত্বর সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে বোরহানউদ্দিনবাসীর মাঝ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে সভা-সমাবেশ ও সংস্কৃতি চর্চার এ একমাত্র স্থানটি।



















