আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

ঠাকুরগাঁওয়ে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:49:47 am, Saturday, 19 September 2026
  • 11

ঠাকুরগাঁওয়ে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দরে একটি কারাম গাছের ডালকে কেন্দ্র করে নাচ, গান ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালো ফসলের আশায় গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়।

রাত ৯টায় শুরু হয় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ঢোল ও মাদলের তালে নারী-পুরুষের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলায়। কারাম উৎসবকে ঘিরে কয়েক দিন আগে থেকেই সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাকে নারী-পুরুষ, হাতে ঢোল ও মাদল নিয়ে নাচ-গান করতে করতে উৎসবে অংশ নেন তারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ ছুটে আসেন এ আয়োজন দেখতে।

কারাম পূজার অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো কারাম গাছের ডাল স্থাপন। এ উপলক্ষে ওড়াঁও নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে নাচ-গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, বিপদ আপদ থেকে মুক্তি, ভালো ফসল এবং সুখ সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় প্রতিবছর এ পূজার আয়োজন করা হয়।

কারাম গাছের ডাল স্থাপনের পর শুরু হয় উৎসবের মূল আয়োজন। নারী-পুরুষের সঙ্গে নাচ গানে যোগ দেয় শিশু-কিশোররাও। ঢোল ও মাদলের তালে তালে একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন পুরো গ্রামের মানুষ। এতে একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা হয়, অন্যদিকে তৈরি হয় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন কারাম উৎসব দেখতে।

ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান ও উৎসবের নানা আয়োজন উপভোগ করে মুগ্ধতার কথা জানান তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন প্রতিবছর যেন আরও বড় পরিসরে করা হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া অতিথিরাও ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।

আয়োজকরা জানান, কারাম উৎসব মূলত তিন দিনের আয়োজন। ভাদ্র মাসের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার রাতে মূল আনুষ্ঠানিকতার পর শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কারাম গাছের ডাল নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, ওড়াঁও সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা প্রয়োজন।

এ জন্য সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। একটি কারাম গাছের ডালকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও এ উৎসব একসময় মিলনমেলায় রূপ নেয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখছেন ওড়াঁও সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই কারাম উৎসব তাদের কাছে শুধু পূজা নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

কারাম উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুমিল্লার কোটবাড়ি থেকে কুবি শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিম নিখোঁজ

ঠাকুরগাঁওয়ে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত

Update Time : 09:49:47 am, Saturday, 19 September 2026

ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দরে একটি কারাম গাছের ডালকে কেন্দ্র করে নাচ, গান ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালো ফসলের আশায় গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়।

রাত ৯টায় শুরু হয় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ঢোল ও মাদলের তালে নারী-পুরুষের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলায়। কারাম উৎসবকে ঘিরে কয়েক দিন আগে থেকেই সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাকে নারী-পুরুষ, হাতে ঢোল ও মাদল নিয়ে নাচ-গান করতে করতে উৎসবে অংশ নেন তারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ ছুটে আসেন এ আয়োজন দেখতে।

কারাম পূজার অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো কারাম গাছের ডাল স্থাপন। এ উপলক্ষে ওড়াঁও নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে নাচ-গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, বিপদ আপদ থেকে মুক্তি, ভালো ফসল এবং সুখ সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় প্রতিবছর এ পূজার আয়োজন করা হয়।

কারাম গাছের ডাল স্থাপনের পর শুরু হয় উৎসবের মূল আয়োজন। নারী-পুরুষের সঙ্গে নাচ গানে যোগ দেয় শিশু-কিশোররাও। ঢোল ও মাদলের তালে তালে একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন পুরো গ্রামের মানুষ। এতে একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা হয়, অন্যদিকে তৈরি হয় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন কারাম উৎসব দেখতে।

ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান ও উৎসবের নানা আয়োজন উপভোগ করে মুগ্ধতার কথা জানান তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন প্রতিবছর যেন আরও বড় পরিসরে করা হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া অতিথিরাও ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।

আয়োজকরা জানান, কারাম উৎসব মূলত তিন দিনের আয়োজন। ভাদ্র মাসের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার রাতে মূল আনুষ্ঠানিকতার পর শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কারাম গাছের ডাল নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, ওড়াঁও সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা প্রয়োজন।

এ জন্য সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। একটি কারাম গাছের ডালকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও এ উৎসব একসময় মিলনমেলায় রূপ নেয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখছেন ওড়াঁও সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই কারাম উৎসব তাদের কাছে শুধু পূজা নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

কারাম উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।