আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

আজ জারি হতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:35:36 am, Saturday, 19 September 2026
  • 11

আজ জারি হতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর গত ৩১ আগস্ট এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানানো হলেও ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন সপ্তাহ।

তবে আশা কথা হলো, বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার প্রহর আজ হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের একটি সূত্রের তথ্য অনুসারে, আজ শনিবার নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে এটি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আজ দুপুরের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে নয়, মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে একটি মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক ৫ থেকে ৭টি এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ থাকবে। নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১.৭৮। নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে সরকারি ব্যয়ভার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও থাকছে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হেলিকপ্টারে পালাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন: তারেক রহমানকে নাহিদ ইসলাম

আজ জারি হতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

Update Time : 10:35:36 am, Saturday, 19 September 2026

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর গত ৩১ আগস্ট এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানানো হলেও ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন সপ্তাহ।

তবে আশা কথা হলো, বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার প্রহর আজ হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের একটি সূত্রের তথ্য অনুসারে, আজ শনিবার নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে এটি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আজ দুপুরের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে নয়, মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে একটি মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক ৫ থেকে ৭টি এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ থাকবে। নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১.৭৮। নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে সরকারি ব্যয়ভার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও থাকছে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।