সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে টান পড়েছে। দাম বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনের মধ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। এদিকে কোনো কোনো দোকানে নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে উপজেলার ভুইয়াগাতি, ধানগড়া ও নিমগাছী বাজারের কয়েকটি মুদি দোকানে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। ভুইয়াগাতি ও ধানগড়া বাজারের কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, দোকানে সয়াবিন তেল চাইলে সংকটের কথা বলা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দোকানে নির্ধারিত খুচরা মূল্য তালিকার চেয়ে প্রতি লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনের কারণে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই তেল কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা বলেন, দোকানে গেলে সয়াবিন তেল নেই বলা হচ্ছে। আবার বেশি দাম দিতে রাজি হলে তেল পাওয়া যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, কোম্পানিগুলোকে সয়াবিন তেলের চাহিদা দেওয়ার পরও তারা পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। এ কারণে আমরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছি। এদিকে উপজেলার নিমগাছী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন খবর শোনার পর গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানির কাছ থেকে তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।
কোম্পানির লোকজন তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তারা। আগামীকাল নতুন করে তেল দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন তেল বাজারে আসার পর দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। নিমগাছী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানির কাছ থেকে তেল পাচ্ছি না। দাম বাড়বে নাকি কমবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। আগামীকাল নতুন করে তেল দেওয়ার কথা রয়েছে।
তখন বাজার পরিস্থিতি বোঝা যাবে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।


















