আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৩%

হারানো জাহাজের সন্ধানে টিনটিন

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:19:26 am, Tuesday, 15 September 2026
  • 11

হারানো জাহাজের সন্ধানে টিনটিন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গল্পটি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস শহরের। সেখানে বাস করত টিনটিন নামের একজন বুদ্ধিমান তরুণ সাংবাদিক। সেখানে তার সঙ্গে থাকত স্নোভি নামের একটি শুভ্র-সাদা পোষা কুকুর। একদিন খোলা বাজারে ঘুরতে ঘুরতে টিনটিন একটা পুরোনো দোকানে সপ্তদশ শতাব্দীর ইউনিকর্ন নামের একটি সুন্দর প্রাচীন রণতরির ছোট কাঠের মডেল দেখতে পায়।

টিনটিনের সেই মডেলটি খুব পছন্দ হয়ে যায় এবং সে সেটি কিনে নিয়ে তার ঘরে চলে আসে। কিন্তু ঘরে আসতেই ঘটে এক কা-! স্নোভি ও একটি বিড়ালের দৌড়াদৌড়ির মাঝে সেই তরির কাঠের মাস্তুলটি ভেঙে যায়। টিনটিনের অলক্ষ্যেই সেই মাস্তুলের ভেতর থেকে অতি ক্ষুদ্র পার্চমেন্ট কাগজের একটি গোটানো স্ক্রোল ছিটকে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। যদিও টিন্টিন তখনো কিছু বোঝে না।

এর পরদিনই টিনটিনের ফ্ল্যাট থেকে চুরি হয়ে যায় সেই জাহাজের মডেলটি। জানা যায়, সাকারিন নামের রহস্যময় একজন ধনী লোক সেটি চুরি করায়। টিনটিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সাকারিনের কাছেও হুবহু একই রকম দেখতে আরেকটি ইউনিকর্ন জাহাজের মডেল আছে। তখন টিনটিন বুঝতে পারে যে রহস্যটা আসলে অনেক বড়! ঠিক সেই সময়ে স্নোভি ঘরের মেঝে থেকে সেই গোটানো কাগজটি খুঁজে বের করে টিনটিনের হাতে দেয়।

কাগজটিতে প্রাচীন একটি গোপন সংকেত লেখা ছিল। সব ঠিক ছিল। কিন্তু বিপদ বেশিক্ষণ দূরে রইল না। সাকারিনের লোকেরা টিনটিনকে ধরে অপহরণ করে এসএস কারাবুজান নামের এক বিশাল মালবাহী জাহাজে বন্দি করে নিয়ে যায়। সেখানে টিনটিনের পরিচয় হয় জাহাজটির আসল ক্যাপ্টেন আর্চিবল্ড হ্যাডকের সঙ্গে। ক্যাপ্টেন হ্যাডক ছিল ভীষণ খিটখিটে স্বভাবের। সে সারাক্ষণ মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত, কারণ সে তার অতীতের সব স্মৃতি ভুলে গিয়েছিল।

টিনটিন ও বুদ্ধিমান স্নোভি মিলে সাকারিনের অনুচরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাহাজের লাইফবোটে চড়ে মহাসমুদ্রে পালিয়ে যায়। তারা ক্যাপ্টেন হ্যাডককেও সঙ্গে নিয়ে নেয়। সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে সাকারিনের পাঠানো এক সি-প্লেন তাদের আক্রমণ করলে, টিনটিন সাহসিকতার সঙ্গে বন্দুক চালিয়ে সেই প্লেনটির ইঞ্জিন অকেজো করে তা ছিনতাই করে নেয়! প্লেন চালিয়ে তারা সাহারা মরুভূমির দিকে রওনা হয়, কিন্তু ধূলিঝড়ের কারণে প্লেনটি মরুভূমির বুকে আছড়ে পড়ে।

মরুভূমির কড়া রোদে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাপ্টেন হ্যাডকের হঠাৎ সব পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে। সে মনে করতে পারে যে তার পূর্বপুরুষ স্যার ফ্রান্সিস হ্যাডক ছিলেন সেই ঐতিহাসিক ইউনিকর্ন জাহাজের অধিনায়ক। ১৭ শতকে রেড র‌্যাকহাম নামের এক ভয়ংকর জলদস্যু যখন সেই জাহাজ আক্রমণ করে, তখন স্যার ফ্রান্সিস রতœভান্ডার বাঁচাতে পুরো জাহাজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেন।

এসব চলতে চলতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে তারা জ্ঞান হারায়। মরুভূমিতে অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকার পর কিছু সৈনিক এসে টিনটিন ও হ্যাডককে উদ্ধার করে মরক্কোর বাঘার শহরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা জানতে পারে যে, সাকারিন আসলে সেই প্রাচীন জলদস্যু রেড র‌্যাকহামের বংশধর! সাকারিন জানতে পেরেছিল যে প্রাচীনকালে স্যার ফ্রান্সিস তিনটি ইউনিকর্ন মডেলের ভেতর তিনটি গোপন কাগজ লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা মেলালে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ধনরতেœর সঠিক মানচিত্র পাওয়া যাবে।

বাঘার শহরের এক ধনীর প্রাসাদে ছিল সেই মডেলের শেষ তিন নম্বর মডেলটি। সেখানে একটি কনসার্টের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সাকারিন তার পোষা বাজপাখিকে দিয়ে শেষ গোপন কাগজটিও ছিনিয়ে নেয়। শহরজুড়ে দারুণ এক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সাকারিন তিনটি কাগজই নিয়ে চম্পট দেয়। তবে টিনটিন আর ক্যাপ্টেন হ্যাডক কিন্তু এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়! তারা বুঝতে পারে সাকারিন শিপইয়ার্ডের বন্দরে যাচ্ছে।

টিনটিন আর হ্যাডক দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। বন্দরে পৌঁছানোর পর সাকারিন আর ক্যাপ্টেনের মধ্যে প্রকা- ক্রেন দিয়ে দুর্দান্ত এক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়! তুমুল লড়াই শেষে টিনটিন চতুরতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাকারিনের হাত থেকে তিনটি কাগজই কেড়ে নেয়, আর ক্যাপ্টেন হ্যাডক ধাক্কা দিয়ে শয়তান সাকারিনকে সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেয়। পরে থমসন ও থম্পসন নামের দুই গোয়েন্দা এসে সাকারিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

তিনটি গোপন কাগজ একসঙ্গে জোড়া দিতেই একটি বিশেষ মানচিত্র ফুটে ওঠে। সেই মানচিত্র ধরে টিনটিন ও ক্যাপ্টেন হ্যাডক গিয়ে পৌঁছায় মার্লিনস্পাইক হলের ভূগর্ভস্থ এক গোপন ঘরে। সেখানে একটা পুরোনো গ্লোবের ওপর বিশেষ এক বোতামে চাপ দিতেই তা খুলে যায়! গ্লোবের ভেতর পাওয়া যায় হাজার বছর আগের উদ্ধার করা প্রচুর সোনাদানা, একটি ঐতিহাসিক টুপি এবং আসল ডুবন্ত জাহাজের মানচিত্র।

কিন্তু সেই আংশিক ধনরতœ পেয়েই তারা থেমে থাকে না। তারা বুঝতে পারে আসল রতœভান্ডার এখনো সমুদ্রের গভীরে ইউনিকর্ন জাহাজের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে জমা হয়ে আছে। টিনটিন, ক্যাপ্টেন হ্যাডক আর স্নোভি পরম আনন্দে আবার এক নতুন অভিযানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। গল্পটি ছিল ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব টিনটিন: দ্য সিক্রেট অব দ্য ইউনিকর্ন’ সিনেমার।

দারুণ এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। এটি প্রযোজনা করেছিলেন লর্ড অব দ্য রিংসখ্যাত পরিচালক পিটার জ্যাকসন। বেলজিয়ান চিত্রশিল্পী হার্জের বিখ্যাত কমিকস অবলম্বনে এই চলচ্চিত্রটি বানানো হয়েছিল। ছবিটিতে মোশন-ক্যাপচার নামক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে আসল মানুষের অভিনয় ও অঙ্গভঙ্গিকে কম্পিউটারের সাহায্যে দুর্দান্ত অ্যানিমেশনে রূপ দেওয়া হয়েছিল।

১৩৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল এবং প্রথম অ-ডিজনী ছবি হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেয়েছিল। সিনেমাটিতে টিনটিনের চরিত্রে জেমি বেল, ক্যাপ্টেন হ্যাডকের চরিত্রে অ্যান্ডি সার্কিস এবং খলনায়ক সাকারিনের চরিত্রে ড্যানিয়েল ক্রেইগ দারুণ মোশন-ক্যাপচার অভিনয় ও কণ্ঠ দিয়েছেন।

এই গল্পটি আমাদের শেখায়, জীবনের যেকোনো বিপদে ভীতি দূর করে সাহসী হতে হয়। ক্যাপ্টেন হ্যাডক যেমন মদের নেশা আর বিষণœতা ছেড়ে টিনটিনের বন্ধুত্বের জোরে আবার নিজের হারিয়ে যাওয়া শক্তি খুঁজে পেয়েছিল, তেমনি আমাদেরও সৎ পথের জন্য সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আর টিনটিনের মতো কৌতূহলী মন থাকলে পৃথিবীর যেকোনো বড় রহস্যের জট খোলা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হারানো জাহাজের সন্ধানে টিনটিন

Update Time : 08:19:26 am, Tuesday, 15 September 2026

গল্পটি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস শহরের। সেখানে বাস করত টিনটিন নামের একজন বুদ্ধিমান তরুণ সাংবাদিক। সেখানে তার সঙ্গে থাকত স্নোভি নামের একটি শুভ্র-সাদা পোষা কুকুর। একদিন খোলা বাজারে ঘুরতে ঘুরতে টিনটিন একটা পুরোনো দোকানে সপ্তদশ শতাব্দীর ইউনিকর্ন নামের একটি সুন্দর প্রাচীন রণতরির ছোট কাঠের মডেল দেখতে পায়।

টিনটিনের সেই মডেলটি খুব পছন্দ হয়ে যায় এবং সে সেটি কিনে নিয়ে তার ঘরে চলে আসে। কিন্তু ঘরে আসতেই ঘটে এক কা-! স্নোভি ও একটি বিড়ালের দৌড়াদৌড়ির মাঝে সেই তরির কাঠের মাস্তুলটি ভেঙে যায়। টিনটিনের অলক্ষ্যেই সেই মাস্তুলের ভেতর থেকে অতি ক্ষুদ্র পার্চমেন্ট কাগজের একটি গোটানো স্ক্রোল ছিটকে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। যদিও টিন্টিন তখনো কিছু বোঝে না।

এর পরদিনই টিনটিনের ফ্ল্যাট থেকে চুরি হয়ে যায় সেই জাহাজের মডেলটি। জানা যায়, সাকারিন নামের রহস্যময় একজন ধনী লোক সেটি চুরি করায়। টিনটিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সাকারিনের কাছেও হুবহু একই রকম দেখতে আরেকটি ইউনিকর্ন জাহাজের মডেল আছে। তখন টিনটিন বুঝতে পারে যে রহস্যটা আসলে অনেক বড়! ঠিক সেই সময়ে স্নোভি ঘরের মেঝে থেকে সেই গোটানো কাগজটি খুঁজে বের করে টিনটিনের হাতে দেয়।

কাগজটিতে প্রাচীন একটি গোপন সংকেত লেখা ছিল। সব ঠিক ছিল। কিন্তু বিপদ বেশিক্ষণ দূরে রইল না। সাকারিনের লোকেরা টিনটিনকে ধরে অপহরণ করে এসএস কারাবুজান নামের এক বিশাল মালবাহী জাহাজে বন্দি করে নিয়ে যায়। সেখানে টিনটিনের পরিচয় হয় জাহাজটির আসল ক্যাপ্টেন আর্চিবল্ড হ্যাডকের সঙ্গে। ক্যাপ্টেন হ্যাডক ছিল ভীষণ খিটখিটে স্বভাবের। সে সারাক্ষণ মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত, কারণ সে তার অতীতের সব স্মৃতি ভুলে গিয়েছিল।

টিনটিন ও বুদ্ধিমান স্নোভি মিলে সাকারিনের অনুচরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাহাজের লাইফবোটে চড়ে মহাসমুদ্রে পালিয়ে যায়। তারা ক্যাপ্টেন হ্যাডককেও সঙ্গে নিয়ে নেয়। সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে সাকারিনের পাঠানো এক সি-প্লেন তাদের আক্রমণ করলে, টিনটিন সাহসিকতার সঙ্গে বন্দুক চালিয়ে সেই প্লেনটির ইঞ্জিন অকেজো করে তা ছিনতাই করে নেয়! প্লেন চালিয়ে তারা সাহারা মরুভূমির দিকে রওনা হয়, কিন্তু ধূলিঝড়ের কারণে প্লেনটি মরুভূমির বুকে আছড়ে পড়ে।

মরুভূমির কড়া রোদে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাপ্টেন হ্যাডকের হঠাৎ সব পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে। সে মনে করতে পারে যে তার পূর্বপুরুষ স্যার ফ্রান্সিস হ্যাডক ছিলেন সেই ঐতিহাসিক ইউনিকর্ন জাহাজের অধিনায়ক। ১৭ শতকে রেড র‌্যাকহাম নামের এক ভয়ংকর জলদস্যু যখন সেই জাহাজ আক্রমণ করে, তখন স্যার ফ্রান্সিস রতœভান্ডার বাঁচাতে পুরো জাহাজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেন।

এসব চলতে চলতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে তারা জ্ঞান হারায়। মরুভূমিতে অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকার পর কিছু সৈনিক এসে টিনটিন ও হ্যাডককে উদ্ধার করে মরক্কোর বাঘার শহরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা জানতে পারে যে, সাকারিন আসলে সেই প্রাচীন জলদস্যু রেড র‌্যাকহামের বংশধর! সাকারিন জানতে পেরেছিল যে প্রাচীনকালে স্যার ফ্রান্সিস তিনটি ইউনিকর্ন মডেলের ভেতর তিনটি গোপন কাগজ লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা মেলালে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ধনরতেœর সঠিক মানচিত্র পাওয়া যাবে।

বাঘার শহরের এক ধনীর প্রাসাদে ছিল সেই মডেলের শেষ তিন নম্বর মডেলটি। সেখানে একটি কনসার্টের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সাকারিন তার পোষা বাজপাখিকে দিয়ে শেষ গোপন কাগজটিও ছিনিয়ে নেয়। শহরজুড়ে দারুণ এক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সাকারিন তিনটি কাগজই নিয়ে চম্পট দেয়। তবে টিনটিন আর ক্যাপ্টেন হ্যাডক কিন্তু এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়! তারা বুঝতে পারে সাকারিন শিপইয়ার্ডের বন্দরে যাচ্ছে।

টিনটিন আর হ্যাডক দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। বন্দরে পৌঁছানোর পর সাকারিন আর ক্যাপ্টেনের মধ্যে প্রকা- ক্রেন দিয়ে দুর্দান্ত এক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়! তুমুল লড়াই শেষে টিনটিন চতুরতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাকারিনের হাত থেকে তিনটি কাগজই কেড়ে নেয়, আর ক্যাপ্টেন হ্যাডক ধাক্কা দিয়ে শয়তান সাকারিনকে সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেয়। পরে থমসন ও থম্পসন নামের দুই গোয়েন্দা এসে সাকারিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

তিনটি গোপন কাগজ একসঙ্গে জোড়া দিতেই একটি বিশেষ মানচিত্র ফুটে ওঠে। সেই মানচিত্র ধরে টিনটিন ও ক্যাপ্টেন হ্যাডক গিয়ে পৌঁছায় মার্লিনস্পাইক হলের ভূগর্ভস্থ এক গোপন ঘরে। সেখানে একটা পুরোনো গ্লোবের ওপর বিশেষ এক বোতামে চাপ দিতেই তা খুলে যায়! গ্লোবের ভেতর পাওয়া যায় হাজার বছর আগের উদ্ধার করা প্রচুর সোনাদানা, একটি ঐতিহাসিক টুপি এবং আসল ডুবন্ত জাহাজের মানচিত্র।

কিন্তু সেই আংশিক ধনরতœ পেয়েই তারা থেমে থাকে না। তারা বুঝতে পারে আসল রতœভান্ডার এখনো সমুদ্রের গভীরে ইউনিকর্ন জাহাজের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে জমা হয়ে আছে। টিনটিন, ক্যাপ্টেন হ্যাডক আর স্নোভি পরম আনন্দে আবার এক নতুন অভিযানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। গল্পটি ছিল ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব টিনটিন: দ্য সিক্রেট অব দ্য ইউনিকর্ন’ সিনেমার।

দারুণ এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। এটি প্রযোজনা করেছিলেন লর্ড অব দ্য রিংসখ্যাত পরিচালক পিটার জ্যাকসন। বেলজিয়ান চিত্রশিল্পী হার্জের বিখ্যাত কমিকস অবলম্বনে এই চলচ্চিত্রটি বানানো হয়েছিল। ছবিটিতে মোশন-ক্যাপচার নামক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে আসল মানুষের অভিনয় ও অঙ্গভঙ্গিকে কম্পিউটারের সাহায্যে দুর্দান্ত অ্যানিমেশনে রূপ দেওয়া হয়েছিল।

১৩৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল এবং প্রথম অ-ডিজনী ছবি হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেয়েছিল। সিনেমাটিতে টিনটিনের চরিত্রে জেমি বেল, ক্যাপ্টেন হ্যাডকের চরিত্রে অ্যান্ডি সার্কিস এবং খলনায়ক সাকারিনের চরিত্রে ড্যানিয়েল ক্রেইগ দারুণ মোশন-ক্যাপচার অভিনয় ও কণ্ঠ দিয়েছেন।

এই গল্পটি আমাদের শেখায়, জীবনের যেকোনো বিপদে ভীতি দূর করে সাহসী হতে হয়। ক্যাপ্টেন হ্যাডক যেমন মদের নেশা আর বিষণœতা ছেড়ে টিনটিনের বন্ধুত্বের জোরে আবার নিজের হারিয়ে যাওয়া শক্তি খুঁজে পেয়েছিল, তেমনি আমাদেরও সৎ পথের জন্য সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আর টিনটিনের মতো কৌতূহলী মন থাকলে পৃথিবীর যেকোনো বড় রহস্যের জট খোলা সম্ভব।