আজ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭২%

তেঁতুলিয়ার ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি দশমিনাবাসীর

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:16:05 am, Sunday, 13 September 2026
  • 7

তেঁতুলিয়ার ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি দশমিনাবাসীর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌরাঙ্গ নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে পটুয়াখালীর দশমিনার স্থলভূমি। গত দুই দশকে নদীভাঙনে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার স্থলভূমি বিলীন হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এর সঙ্গে হারিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থানও। শেষ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার হাজিরহাট জামে মসজিদের পশ্চিম-উত্তর পাশে তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের একটি অংশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া শতাধিক জিওব্যাগ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

একই সঙ্গে অন্তত ২০টি কবর নদীগর্ভে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে হাজিরহাট জামে মসজিদ, বাজার, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অর্ধশতাধিক বসতঘরসহ আশপাশের এলাকা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনের কারণে হাজিরহাট থেকে বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাটের মূল সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন এবং টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে তেঁতুলিয়ার ভাঙনে দশমিনার আরও বিস্তীর্ণ স্থলভূমি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা, থানার ওসি আতিকুল ইসলাম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা। ইউএনও জানান, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদ ভবনে আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এদিকে স্থায়ী নদীশাসনের দাবিতে গত বুধবার হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, হাজিরহাট বেড়িবাঁধের অস্বাভাবিক ভাঙনের বিষয়টি পানিসম্পদমন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এআই যুগে নতুন ডিজিটাল প্রজন্মের যা জানা জরুরি

তেঁতুলিয়ার ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি দশমিনাবাসীর

Update Time : 06:16:05 am, Sunday, 13 September 2026

তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌরাঙ্গ নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে পটুয়াখালীর দশমিনার স্থলভূমি। গত দুই দশকে নদীভাঙনে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার স্থলভূমি বিলীন হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এর সঙ্গে হারিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থানও। শেষ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার হাজিরহাট জামে মসজিদের পশ্চিম-উত্তর পাশে তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের একটি অংশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া শতাধিক জিওব্যাগ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

একই সঙ্গে অন্তত ২০টি কবর নদীগর্ভে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে হাজিরহাট জামে মসজিদ, বাজার, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অর্ধশতাধিক বসতঘরসহ আশপাশের এলাকা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনের কারণে হাজিরহাট থেকে বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাটের মূল সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন এবং টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে তেঁতুলিয়ার ভাঙনে দশমিনার আরও বিস্তীর্ণ স্থলভূমি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা, থানার ওসি আতিকুল ইসলাম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা। ইউএনও জানান, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদ ভবনে আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এদিকে স্থায়ী নদীশাসনের দাবিতে গত বুধবার হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, হাজিরহাট বেড়িবাঁধের অস্বাভাবিক ভাঙনের বিষয়টি পানিসম্পদমন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।