দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিস রোগের জরুরি ওষুধ ‘মেটাফরমি’ ও ‘গ্লাইক্লাজাইড’ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের রোগীরা। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছে, মজুত শেষ হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন করে ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ সংগ্রহ করতে অন্তত আরও দুই মাস সময় লেগে যাবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মজুত শেষ হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা নিম্ন আয়ের ডায়াবেটিস রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ওষুধ না পেয়ে শুধু পরামর্শ নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে এসব রোগীকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি বিশেষ ডায়াবেটিস কর্নার চালু রয়েছে।
যেখানে বিনা মূল্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই ডায়াবেটিস কর্নারে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। জনপ্রতি রোগীকে এক মাসের ওষুধ দেওয়া হয় গত ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৬৫৭ জন ডায়াবেটিস রোগী এখন থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন। ২১ জুলাই থেকে ওষুধের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা শূন্যহাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডায়াবেটিস কর্নারে চিকিৎসা নিতে আসা রাহুল আকাশ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ পেয়ে খুবই উপকার হতো। ওষুধ শেষ না থাকায় বাধ্য হয়ে বাজার থেকে কিনে ওষুধ খেতে হবে। এতে সংসারের খরচে টানাপোড়ন হবে। অপর রোগী ছকিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালের বিনা মূল্যের ওষুধ খেয়ে উপকার হতো। কিন্তু হাসপাতালে এসে শুনছি ওষুধ নাই, কবে আসবে তাও কেউ বলতে পারছে না।
এখন কি করা, বাড়তি টাকা দিয়ে বাহির থেকে কিনে খেতে হবে। ’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়াবেটিস কর্নারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স খাদিজা আফরোজ বলেন, ডায়াবেটিস ওষুধের মজুত শেষ হওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনরায় রোগীদের মাঝে ওষুধ সরবরাহ করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে ‘মেটাফরমিন’ ও ‘গ্লাইক্লাজাইড’ এই দুই পদের ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
একই সঙ্গে অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মজুদও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নিজস্ব তহবিল থেকে ওষুধ কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাসহ ওষুধ হাতে পেতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লেগে যাবে। ওষুধ সরবরাহ পাওয়া গেলে আগের মতো না হলেও সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হবে।
















