জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের অভিঘাত শুধু দেশের রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক কাঠামোকেই বদলে দেয়নি, বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমেও। পুলিশ বাহিনীর ওপর সেই অভিঘাত ছিল বহুমাত্রিক।
চাকরিচ্যুত করা, গ্রেপ্তার, পালিয়ে থাকা, নেতৃত্বের পরিবর্তন, ব্যাপক বদলি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, মাঠ পর্যায়ের অনিশ্চয়তা এবং সদস্যদের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা মনস্তাত্ত্বিক চাপ— সব মিলিয়ে এখনো পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেনি দেশের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ। ফলে তার একটা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে রাজধানীসহ সারা দেশের অপরাধচিত্রের ওপর।
এমনটাই বলছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাজধানীসহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও শহরাঞ্চলের থানায় ব্যাপক রদবদল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক থানার কর্মকর্তা অন্য থানায়, এক এলাকার পুলিশ সদস্য অন্য অঞ্চলে— ফলে অনেক জায়গায় তৈরি হয়েছে ‘অচেনা পুলিশের’ বাস্তবতা।
যে পুলিশ সদস্য গত কয়েক বছর একটি এলাকার অলিগলি, অপরাধীচক্র, মাদক স্পট, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় সোর্সদের চিনতেন, তিনি এখন অন্য এলাকায়। আর নতুন যারা এসেছেন, তাদের কাছেও এলাকার অপরাধচিত্র অনেকটাই নতুন। ফলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বিপরীত বাস্তবতা— পুলিশ অপরাধীদের চেনে না, কিন্তু অপরাধীরা পুলিশকে চিনে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সুযোগ নিচ্ছে সংগঠিত অপরাধীচক্র, পলাতক আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী এবং পুলিশের তথাকথিত সোর্সদের একটি অংশ। গণআন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলা, বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, সদস্যদের প্রাণহানি, দায়িত্ব পালনের সময় অনিশ্চয়তা এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাপক প্রশাসনিক পরিবর্তন— সব কিছু মিলিয়ে বাহিনীর ভেতরে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
পুলিশের কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আত্মবিশ্বাস। একজন সদস্য যখন জানেন, আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সমর্থন পাবেন এবং দায়িত্ব পালনের একটি স্পষ্ট কাঠামো রয়েছে, তখন তিনি দৃঢ়ভাবে মাঠে কাজ করতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সেই আত্মবিশ্বাসের জায়গায় কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে দ্বিধা।
কোথায় কতটা কঠোর হতে হবে, কখন বলপ্রয়োগ করা যাবে, কোনো সিদ্ধান্ত পরে বিতর্কিত হবে কি না— এসব প্রশ্ন মাঠ পর্যায়ের অনেক সদস্যের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা কখনো কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতিও তৈরি করছে। অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকলেই কার্যকর পুলিশিং হয় না।
কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, তথ্য, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। এই চারটি জায়গাতেই এখন পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসনে পরিবর্তনের পর ব্যাপক বদলি অনেক ক্ষেত্রেই অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো, বিতর্কিত সম্পর্ক কিংবা নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কারণে তৈরি হওয়া প্রভাববলয় ভাঙতে বদলি একটি প্রশাসনিক অস্ত্র।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ঢালাও বদলির পর স্থানীয় অপরাধব্যবস্থার ধারাবাহিকতা কীভাবে রক্ষা করা হচ্ছে? পাশাপাশি আরেকটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশের ইউনিফর্ম বা পোশাকের ভেতর যে মানুষটি তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পাল্টায় না, তাকে অন্যত্র বদলি করে লাভ কী? একজন অসৎ পুলিশ সদস্য যেখানেই কাজ করুক না কেন, তিনি অসৎই থাকবেন। ঘুষ আর বেআইনি কর্মকাণ্ড ছাড়া তিনি কিছুই বুঝবেন না।
ফলে এদের বদলি করেই লাভ কী? হুমায়ুন কবির বলেন, একটি থানার কার্যকর পুলিশিং শুধু অফিসের নথি দিয়ে পরিচালিত হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এলাকার বাস্তব মানচিত্র। কোন গলি দিয়ে ছিনতাইকারী পালায়, কোন ভবনের ছাদ ব্যবহার করে মাদক পাচার হয়, কোন বাজারে সন্ধ্যার পর চাঁদাবাজি বাড়ে, কোন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা, কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী কিন্তু আড়ালে অপরাধীচক্রের অর্থদাতা— এসব তথ্য তৈরি হয় দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায়।
নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব তথ্য জানতে সময় লাগে। আর সেই সময়টাই ব্যবহার করছে অপরাধীরা। এ ছাড়া শুধু থানার টহল বাড়ালেই হবে না। প্রতিটি থানার জন্য নতুন করে ক্রাইম ম্যাপিং জরুরি। কোন এলাকায় কী ধরনের অপরাধ বেশি, কোন সময়ে ঘটে, কারা জড়িত এবং কোথায় অপরাধীরা আশ্রয় নেয়— এসবের ডিজিটাল ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে।
অনেক এলাকায় পুরোনো চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছে। সমস্যা হলো, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তার নাম জানলেও চেহারা চেনেন না। চেহারা চিনলেও তার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা নেই। ফলে পুলিশের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন ব্যক্তি হয়তো বহু মামলার আসামি, কিন্তু নতুন কর্মকর্তার কাছে তিনি আর দশজনের মতোই সাধারণ পথচারী।
রাজধানীর লালবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আনু ওরফে টাইগার আনু। এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ডান হাত হিসেবে পরিচিত সে। এখন কিছুটা গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। তবে সেটা পুলিশের ভয়ে নয়, সরকারদলীয় লোকজনের ভয়ে। আনু এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশের সঙ্গে বসে এক দোকানেই চা খাই। চায়ের আড্ডায় পরিচয় গোপন রেখে অনেক কথাও বলি। তারা কেউই আমাকে চেনে না।
তিনি আরও জানান, অপরাধীরা এলাকার ভূগোলকে পুলিশের চেয়ে ভালো জানে। রাজধানী ও বড় শহরগুলোর অসংখ্য সরু গলি, বস্তি, আবাসিক এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন, বাজার এবং পরিবহন টার্মিনাল অপরাধীদের দ্রুত পালানোর সুযোগ তৈরি করে। একটি অপরাধ সংঘটনের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে অপরাধী কোথায় অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে, সেই পথচিত্র অনেক সময় স্থানীয় অপরাধীদের নখদর্পণে থাকে।
কিন্তু নতুন পুলিশ সদস্যের কাছে সেই পথ অচেনা। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের এই পরিবর্তনকালীন দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে মূলত চারটি পক্ষ— প্রথমত, পেশাদার অপরাধীচক্র। চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা জানে, নতুন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের পরিচিতি নেই। ফলে পরিচয় গোপন করে চলাফেরা করা সহজ। দ্বিতীয়ত, ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি।
পুরোনো পুলিশ কর্মকর্তারা যাদের চেহারা ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা রাখতেন, নতুন কর্মকর্তাদের কাছে তাদের তথ্য অনেক সময় শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী। নতুন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কিছু মহল। আর চতুর্থত, তথাকথিত পুলিশের সোর্সচক্র। এই শেষ গোষ্ঠীটি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সোর্স বা তথ্যদাতার ভূমিকা নতুন নয়। বিশ্বের প্রায় সব পুলিশ ব্যবস্থাতেই কোনো না কোনোভাবে মানবসূত্র ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন পুলিশ তথ্য যাচাই না করে সোর্সনির্ভর হয়ে পড়ে। নতুন এলাকায় আসা একজন কর্মকর্তা স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত তথ্যের উৎস খুঁজবেন। কে অপরাধী, কার সঙ্গে কার বিরোধ, কোথায় মাদক বিক্রি হয়— এসব জানতে স্থানীয় লোকজন ও তথ্যদাতাদের সাহায্য প্রয়োজন হয়।
এই সুযোগে কিছু অসাধু সোর্স নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ ব্যক্তিগত শত্রুকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, কেউ ব্যাবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হয়রানি করতে পুলিশকে ভুল তথ্য দিচ্ছে, আবার কেউ নিজেকে পুলিশের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে সোর্স কখনো কখনো তথ্যদাতা থেকে ক্ষমতার মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ পুলিশের কাছে ভুল তথ্য গেলে শুধু নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয় না, প্রকৃত অপরাধীরাও নিরাপদে থেকে যায়। তাই সোর্সের দেওয়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশ সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব বাহিনী গঠনের নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এখনো কিছু পুরোনো অভিযোগ পুরোপুরি দূর হয়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ— কিছু ক্ষেত্রে থানায় গিয়ে দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়া কঠিন। অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি, তদন্তে ধীরগতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ এখনো শোনা যায়। বিশেষ করে অসহায় মানুষ যখন থানায় যান, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন নিরপেক্ষ আচরণ।
সেখানে যদি তাকে দালাল, মধ্যস্থতাকারী বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরি হয় না। আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পুলিশ বাহিনীর দুর্বলতা শুধু অপরাধ বাড়ায় না, মধ্যস্বত্বভোগীদেরও শক্তিশালী করে। যেখানে পুলিশ সরাসরি নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, সেখানে দালাল তৈরি হয়। যেখানে তথ্যপ্রবাহ দুর্বল হয়, সেখানে অসাধু সোর্স শক্তিশালী হয়।
আর যেখানে জবাবদিহি কম থাকে, সেখানে দুর্নীতির পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখন সবচেয়ে জরুরি স্থানীয় গোয়েন্দা সক্ষমতা পুনর্গঠন। প্রতিটি থানায় দায়িত্ব পরিবর্তনের আগে এবং পরে একটি শক্তিশালী হ্যান্ডওভার-টেকওভার ক্রাইম প্রোফাইল থাকা দরকার। কোন এলাকায় কারা সক্রিয়, কার বিরুদ্ধে কত মামলা, কারা পলাতক, কোন গ্যাং কোথায় কাজ করে— এসব তথ্য শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মোবাইল বা স্মৃতিতে থাকলে চলবে না।
তথ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। প্রতিটি থানার জন্য হালনাগাদ অপরাধী ড্যাটাবেস, ডিজিটাল ছবি, গ্যাং প্রোফাইল, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির তালিকা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকার মানচিত্র থাকতে হবে। পাশাপাশি নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে বিশেষ ওরিয়েন্টেশন দেওয়া প্রয়োজন। এলাকার জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
কারণ পুলিশের সবচেয়ে বড় সোর্স হওয়া উচিত একজন বা দুজন রহস্যময় তথ্যদাতা নয়— পুরো কমিউনিটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের মনোবল ফেরাতে হবে, কিন্তু জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। মনোবল ফিরিয়ে আনা এখন রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তবে মনোবল বাড়ানোর অর্থ কোনোভাবেই জবাবদিহির বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া নয়। একদিকে সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, কাউন্সেলিং, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্যাতন বা অনৈতিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি আধুনিক পুলিশ বাহিনীর শক্তি মূলত জনআস্থা। পুলিশের অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বাহিনীকে সংস্কারের (ঢেলে সাজানোর) বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দিয়েছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারলে এবং অপরাধ দমনে কোনো কর্মকর্তার ব্যর্থতা বা গাফিলতি দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পূর্বের ইমেজ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাহিনীতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না এবং সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। অপরাধ দমনে পুলিশিং ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা বা জিডি তদন্তে দ্রুত গতি আনার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতায় ব্যাপক ওভারহোলিং বা ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পুলিশের হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনতে অভ্যন্তরীণ মোটিভেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর— উভয় পক্ষই সাধারণ জনগণের মাঝে আস্থা ফেরাতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স-নীতি ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে পুলিশকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।



















