বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কেল খান্নার দাম্পত্য নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় জানিয়েছেন, সংসারের বেশির ভাগ সিদ্ধান্তই তার স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্না নেন। তবে গ্যাজেট-সংক্রান্ত বিষয়ে মাঝেমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। অক্ষয়ের এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—সংসারের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত একজন নিলে কি দাম্পত্য জীবন সুখী ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে?
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর সরাসরি উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। একটি সম্পর্ক কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নির্ভর করে সিদ্ধান্তের সংখ্যা কার বেশি তার ওপর নয়; বরং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, মতামতের গুরুত্ব, সম্মতি ও বোঝাপড়ার ওপর। সব বিষয়ে সমান সিদ্ধান্ত জরুরি নয় দাম্পত্য সম্পর্কে থাকলেই প্রতিটি বিষয়ে দুজনকে সমানভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
বাস্তব জীবনে দুজনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ ভিন্ন হতে পারে। কেউ অর্থনৈতিক বিষয়ে দক্ষ হতে পারেন, আবার অন্যজন ঘরসংসার, সন্তান বা দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় বেশি পারদর্শী হতে পারেন। তাই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়ে যার দক্ষতা বেশি, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তার হাতে থাকতেই পারে। এতে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয় না।
বরং দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিলে সংসারের চাপ কমে এবং কাজও সহজ হয়। একজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও সমস্যা নয় সংসারের কোনো বিষয়ে শেষ পর্যন্ত একজনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়াও সবসময় অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের লক্ষণ নয়। কোনো একটি বিষয়ে একজন বেশি অভিজ্ঞ বা দক্ষ হলে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঙ্গীর মতামত শোনা জরুরি।
সিদ্ধান্তটি কীভাবে নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যজন সেটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না—এ বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মতামতকে গুরুত্ব না দিলেই সমস্যা সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন একজন নিয়মিতভাবে অন্যজনের মতামতকে অগ্রাহ্য করেন। ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তোমাকে মানতেই হবে’—এ ধরনের মনোভাব সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে দুজনই একে অপরের কথা শুনবেন, প্রয়োজনে দ্বিমত করবেন এবং আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়; তবে মতের অমিল থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। দায়িত্ব ভাগ করলে সম্পর্ক সহজ হয় বিয়ের পর সংসার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সন্তান, সামাজিক ও পারিবারিক নানা দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয়।
তাই প্রতিটি কাজ দুজন সমানভাবে করার চেষ্টা করলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। এর পরিবর্তে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া কার্যকর হতে পারে। একজন অর্থনৈতিক বিষয় দেখছেন, অন্যজন দৈনন্দিন সংসার পরিচালনা করছেন—এমন ব্যবস্থাও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে দায়িত্বের এই বণ্টন পরিবর্তনও করা যায়। মতের অমিল হলে কী করবেন?
দুজন মানুষের চিন্তাভাবনা এক হবে না—এটাই স্বাভাবিক। তাই মতভেদকে সম্পর্কের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মতের অমিল হলে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঙ্গীকে জানানো, তার মতামত শোনা এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলা দাম্পত্যের যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করে। তাহলে সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি কী?
সংসারের বেশি সিদ্ধান্ত স্ত্রী নেবেন নাকি স্বামী—এটি সুখী দাম্পত্যের মূল বিষয় নয়। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতি, আস্থা, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া থাকলে একজনের হাতে তুলনামূলক বেশি সিদ্ধান্তের দায়িত্ব থাকলেও সম্পর্ক সুন্দরভাবে চলতে পারে। অন্যদিকে, একজন যদি নিজের সিদ্ধান্ত অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেন, সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব না দেন কিংবা সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের লক্ষণ নয়।
অর্থাৎ সুখী সংসারের জন্য কে বেশি সিদ্ধান্ত নিলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দুজন একে অপরকে কতটা সম্মান ও গুরুত্ব দিলেন।


















