ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা সমাধানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি সুখবর। দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
’ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে দুর্নীতির ধারা চলেছে, সেখান থেকে এখনো পুরোপুরি বের হতে পারিনি। জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর আমার বাড়ি এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তাই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কাজটি সম্পন্ন করা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে আমি সজাগ ও সতর্ক আছি। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা দুর্নীতি যাতে প্রকল্পের ক্ষতি করতে না পারে, সে সুযোগ আমরা দেব না। ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাজের প্রয়োজনে কারও জমি অধিগ্রহণ করতে হলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তবে প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে জমির মালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ভারতের পানি ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভারতকেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কতটা ইতিবাচক ও কার্যকর রাখা উচিত, সেটি তাদের বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যাতে বাংলাদেশের মানুষ না হয়, সে বিষয়ে সরকার আরও বেশি সজাগ থাকবে।
পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

















