পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর বিপুল জনসমর্থন ও আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার সঙ্গে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ঘোষণা করেছিল ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা।
তবে ছয় মাসের পথচলায় অর্থনীতি, জ্বালানি, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মতৎপরতা, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি ও ব্যতিক্রমী কর্মকৌশল জনমনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করলেও সরকারের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা, ঘোষিত উদ্যোগের বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটারদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার তৎপর থাকলেও ঘোষণা ও বাস্তবায়নের ফারাক, অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রশাসনিক বাস্তবতায় কঠিন চ্যালেঞ্জে সরকার। ফলে ছয় মাসে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন—পরিবর্তনের পথে কতটা এগিয়েছে সরকার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলের সঙ্গে আচরণে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের নজির গড়েছে।
প্রধান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি জোটের সঙ্গে সখ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারকে অনেকটাই সফল মনে করছেন তারা। তবে অন্যদিকে সরকারের নিজ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য সরকারের প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। কারও কারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি জনসমালোচনাও বাড়িয়েছে।
কোনো কোনো ঘটনায় সরকারের প্রতিনিধিরাই সাধারণ মানুষের কাছে কখনো বিরক্তি, আবার কখনো হাস্যরসের কারণ হয়ে উঠেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গেল ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেছে। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড প্রদান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি অবলম্বন, বিরোধী দলের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার।
সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খাবার খরচ কমানোর পাশাপাশি প্রটোকল বাতিলসহ অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ব্যয়ের লাগাম টানা হয়েছে। এসব ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছেন।
তবে সামগ্রিক কর্মদক্ষতা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে দলীয় নিয়োগ, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি।
এ ছাড়া কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নগরবাসীর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত সড়কে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা ও পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও দীর্ঘদিনের সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের ১৮০ দিনকে খুব বেশি সময় বলা যায় না।
তবে এখন থেকেই সরকারকে বাস্তবভিত্তিক, দূরদর্শী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন ও জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃঢ়তা দেখানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকারের সুফল যেন সরাসরি জনগণের জীবনে প্রতিফলিত হয়, সে লক্ষ্যে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২৯৭টির মধ্যে ২০৯টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় দলটি। তারেক রহমান দুটি আসনে (ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬) প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয়লাভ করেন। পরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক এ সরকারের কাছে মানুষের বিপুল আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়।
জটিল সমীকরণে অর্থনীতি: দেশের অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে উন্নতি হলেও সামগ্রিক স্বস্তির কারণ নেই। প্রবাসী আয় শক্তিশালী, মূল্যস্ফীতি আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে। সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষিসহায়তায় নতুন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। তবে এর বিপরীতে বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল, ব্যাংক খাতের সংকট গভীর, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত এবং সরকারের ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।
ফলে অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে কি না, তার থেকেও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার সমস্যাগুলোর সমাধানে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করতে পারবে কি না। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তবে এখনো প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব নেওয়ায় সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার দাবি যৌক্তিক। তবে ছয় মাসও কম সময় নয়। এই সময়ে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অন্তত ইতিবাচক ও কার্যকর কিছু সংকেত দেওয়া সম্ভব ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে দুর্বল করে রেখে গেছে—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলেও এখন পর্যন্ত সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম।
এদিকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বোঝা ও বাস্তব অনেক কারণেই সরকার সব ক্ষেত্রে সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র, বিভাজিত প্রশাসন ও লুটেরা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন রোজা এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়।
এসব পরিস্থিতি সরকার সফলতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। পাশাপাশি দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছে। কিছু জায়গায় শতভাগ সফলতা পায়নি সত্য। এদিকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে মন্ত্রীরা সব গুছিয়ে উঠতে পারেননি। কেউ কেউ শুরুতেই ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কিছু কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন।
ফলে সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনাও বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর জন্য জাতীয় সংসদে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় তাকে। খাদ্যপণ্য: বিগত সরকার শাসনের সময় মানুষ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অতিষ্ঠ ছিল।
বলতে গেলে জনবিক্ষোভ তৈরি করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মাথায় বাজার পরিস্থিতি এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ভুগছে সরকার: সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দেয়। জ্বালানি সংকটে বড় ধাক্কা সরকারের। নতুন করে তৈরি হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট।
তবে কৃষকের ঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ডের মতো জনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলেও সার সংকট এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সামনে বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের বড় পরিকল্পনা: এ দুই খাত অনেকটাই বিপর্যস্ত। শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। লুটপাট আর অব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাত।
শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পুরোপুরি এ খাত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসনে পুরো সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। ফলে সরকারের কাজ ও উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। ভারতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক: প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে কূটনৈতিক জটিলতা কাটাতে সরকার বহুমুখী পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর এখন আলোচনায় ভারত সফর। এই সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সঙ্গে আছে টানাপোড়েনও। সরকার জনগণের আস্থা অর্জন: নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আসেনি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধানকে সম্পৃক্ত করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ও পাস হয়েছে। আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের নজির তৈরি করেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্রেপ্তার এবং দেশে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং সেই লক্ষ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে প্রাথমিকভাবে ২৫০টি সর্বাধুনিক পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় কার্গো রিলিজ ব্যবস্থা চালু এবং ঢাকার যানজট নিরসনের চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে সরকারের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হবে এবং মানুষ সুফল পাবে। সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে।
ছয় মাসের যে লক্ষ্য, সেই লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবগুলোই পূরণ হয়েছে। কোথাও হয়তো ১০০ শতাংশ না হলেও সেখানে ৯৫ শতাংশ, ৯০ শতাংশ আছে। সরকারের কাজের মূল্যায়ন করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশের পঞ্চাশ ভালো, আর পঞ্চাশ খারাপ। দেশে চরম এনার্জি ক্রাইসিস বাদ দিলে পঞ্চাশ ভালো। এনার্জি ক্রাইসিস এ মাসের মধ্যে যদি শেষ হয়ে যায়, এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাওয়া উচিত।
তাহলে পঞ্চাশেই থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নীরবে এবং নিঃশব্দে শক্তিশালীভাবে চলছে—এটি নেতিবাচক। তা ছাড়া তারা আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি কমাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন ও বিচার নিশ্চিত না হলে জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। এরপর ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ে চারবার প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আবারও দেড় যুগ পরে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ফলে জটিল এই পরিস্থিতি সামলাতে সরকার ব্যস্ত ও ক্রিটিক্যাল সময় পার করছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।






















