বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির টানাপোড়েনে বছরের পর বছর ভুগছেন পটুয়াখালীর পশ্চিম লোন্দা গ্রামের বাসিন্দারা। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় মাসে দুবার করে প্লাবিত হয় টিয়াখালী নদী সংলগ্ন গ্রামটি। লবণাক্ততার জেরে অনাবাদী হয়ে পড়েছে ফসলী জমি। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও সমাধান হয়নি চার দশকের ভোগান্তির।
টিয়াখালী নদীর তীরে ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামে বাস করে ৩০০টি পরিবার। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও প্রতি বর্ষায় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত হয় গ্রামটি।
প্রায় ৫ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় একটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে স্থানীয়রা। তবে উচ্চতা কম হওয়ায় বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। সম্প্রতি বাঁধের দুটি স্থানে প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় বেড়েছে ভোগান্তি। সামান্য জোয়ারেও তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
লোনা পানি ঢোকায় বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে আছে গ্রামের ৩০০ একর ফসলি জমি। এদিকে, বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি একে অপরকে দায় দিচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘এটি এলজিইডির আওতাধীন। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে দিতে পারি।’ কলাপাড়া এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পগুলো সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড করে থাকে।’
এলাকাবাসীর ভোগান্তির কথা জানানো হলে গ্রাম পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
কলাপাড়ার ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন, মানববন্ধন, কলা গাছের ভেলায় সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন গ্রামের বাসিন্দারা।



















