আজ রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

নড়াইলে বৃদ্ধকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:02:09 pm, Saturday, 15 August 2026
  • 7

নড়াইলে বৃদ্ধকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে (৭১) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের- মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। এর আগে গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে তারা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ তার।

নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানাহেঁচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে তার (নাজিম উদ্দিন) মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংকের চেকের পাতা চেয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা।

এ সময় মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ছাড়া তিনটি একশত টাকার স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন। এরপর নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে (নাজিম) উদ্ধার করেন।

এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া একশত টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত দেয়নি। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি।

এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম দেওয়ানের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা-সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

ঘটনার দিন এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ

নড়াইলে বৃদ্ধকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 08:02:09 pm, Saturday, 15 August 2026

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে (৭১) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের- মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। এর আগে গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে তারা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ তার।

নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানাহেঁচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে তার (নাজিম উদ্দিন) মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংকের চেকের পাতা চেয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা।

এ সময় মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ছাড়া তিনটি একশত টাকার স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন। এরপর নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে (নাজিম) উদ্ধার করেন।

এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া একশত টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত দেয়নি। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি।

এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম দেওয়ানের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা-সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

ঘটনার দিন এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।