নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে তালাকের প্রবণতা। নোটিশ প্রদানের পদ্ধতিকে অবলম্বন করে গত দেড় বছরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে প্রায় এক হাজার দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ সংঘটিত হয়েছে।
এতে বিগত বছরের তুলনায় তিনগুন তালাক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। উপজেলা ঘুরে জানা যায়, তালাক বৃদ্ধির পেছনে বাল্যবিবাহ, পরকীয়া, মাদকাসক্তি, মনোমালিন্য, সমাজের অবক্ষয়, নৈতিকতার অভাব, সম্পর্কে উদাসীনতা ও আর্থিক সমস্যা অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ও চারিত্রিক সমস্যার কারণেও তালাক বাড়ছে।
তিনরকম পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্পর্কের ইতি টানছেন। খোলা তালাক, ছেলে তালাক ও মেয়ে তালাকের মধ্যে বেশির ভাগ তালাক হয়েছে স্ত্রী কর্তৃক। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাজিরপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ জন দম্পতির তালাক সংঘটিত হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালে এখানে মোট ৯৫টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিয়াঘাট ইউনিয়নে ২০২৫ সাল থেকে অদ্যবধি ১০১টি এবং ২০২৪ সালে ৪০টি, খুবজীপুরে ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত ৯৫টি ও ২০২৪ সালে ৪০টি, মশিন্দায় দেড় বছরে ৯১টি ও ২০২৪ সালে ৩০টি, ধারাবারিষায় গত বছরসহ এ পর্যন্ত ৬৫টি ও ২০২৪ সালে ৬৩টি এবং চাপিলা ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ সালের এ পর্যন্ত ১০৮টি ও ২০২৪ সালে ৬০টি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে। উপজেলা কাজী কল্যান সমিতির সভাপতি ও বিয়াঘাট ইউনিয়নের দায়িত্বরত কাজী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন- ‘খোলা তালাক সাধারণত উভয়পক্ষের সম্মতিতে হয়।
একতরফা তালাক হয় না। সেক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের পদ্ধতিতে মীমাংসার চেষ্টা করি। ’ এদিকে পৌরসভার দায়িত্বরত বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুল লতিফ ও আবদুল্লাহ কাজী বলেন, ‘পৌর এলাকাজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২০০ দম্পতির তালাক সংঘটিত হয়েছে। ২০২৪ সালে তালাকের প্রবণতা কম থাকলেও ২৬ সালে এসে তা অনেকগুন বেড়েছে। ’ স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক আলী আক্কাছ বলেন, ‘সন্তানদের প্রতি নিরাপত্তাহীনতা এবং আস্থাহীনতার কারণেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
আইন মেনে সঠিক নিয়মে তালাক কার্যকর করতে হবে। ’ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেখামনি পারভিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক বাধ্যতামূলক বিবাহপূর্ব কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করলে দম্পতিরা মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রস্তুত হতে এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ’ এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘বাল্যবিয়ে ও মাদকাসক্তির কারণে সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনা বাড়ছে।
তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রাখতে তাদের মানসিক অবস্থা বুঝতে হয়। শুনানির মাধ্যমে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে সুপরামর্শ দিয়ে সচেতন করে থাকি। তা ছাড়া বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলমান।



















