জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৃত বেকার ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
অভিযোগের পর অনুসন্ধানে জানা যায়, তথ্য সংগ্রহকারী পদে উত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছেন কালাই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন (আবেদন নম্বর-১৯), কালাই পৌরসভায় মাস্টাররোলে ও আনসারে কর্মরত এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক গোলাম রব্বানী (আবেদন নম্বর-১২), কালাই ডায়াবেটিস হাসপাতালে কর্মরত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) মৌসুমী আক্তার দিলরুবা (আবেদন নম্বর-১১)।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তারা কীভাবে প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে ৮ ঘণ্টার শুমারি কার্যক্রমে সময় দেবেন? সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, মাত্রাই ইউনিয়নের তারেক ইসলাম (আবেদন নম্বর-৩৬২) ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও চূড়ান্ত ফলাফলে তার নাম এসেছে। নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, এটি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তাদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা, মেধা ও পরীক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত যোগ্য ও বেকার প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. সাদিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কারণে কথা বলতে অপারগ বলে অফিস সহকারীর মাধ্যমে জানান।
ভাইভায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে অফিস সহকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত নথিপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। অন্যদিকে, ভাইভা পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নির্বাচন কমিটির সভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, যারা দক্ষ ও অভিজ্ঞ, তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাইভা বোর্ডে যারা ভালো করেছেন, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।














