3:44 pm, Monday, 10 August 2026

কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে ৩৪ লাখ টাকার প্রতারণা, যশোরে আটক ২

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:24:48 pm, Monday, 10 August 2026
  • 4

কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে ৩৪ লাখ টাকার প্রতারণা, যশোরে আটক ২

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যশোরে কাজী ফার্মস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

এ সময় নগদ অর্থ, গমের ভূষি এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেককে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যায়।

তবে সেখান থেকে আত্মসাৎ করা গমের ভূষির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, ৭টি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোটরসাইকেল এবং স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রটি যশোরের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি সরবরাহের চুক্তি করে। পরে ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে সরবরাহ করা গমের ভূষি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকে খালাস করে আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়।

তিনি কাজী ফার্মসের যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। এরপর তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক এবং আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বাংলাদেশ ও ভারতের সুসম্পর্ক দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক: দীনেশ ত্রিবেদী

কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে ৩৪ লাখ টাকার প্রতারণা, যশোরে আটক ২

Update Time : 02:24:48 pm, Monday, 10 August 2026

যশোরে কাজী ফার্মস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার গমের ভূষি আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

এ সময় নগদ অর্থ, গমের ভূষি এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেককে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যায়।

তবে সেখান থেকে আত্মসাৎ করা গমের ভূষির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা গমের ভূষির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, ৭টি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোটরসাইকেল এবং স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রটি যশোরের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি সরবরাহের চুক্তি করে। পরে ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে সরবরাহ করা গমের ভূষি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকে খালাস করে আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়।

তিনি কাজী ফার্মসের যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। এরপর তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক এবং আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।